শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  কক্সবাজার, বান্দরবানের ২৯টি অরক্ষিত সীমান্ত পয়েন্ট অতিক্রম করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র, মাদক ও সোনা চোরাচালান চালাচ্ছে নির্বিঘ্নে। মিয়ানমার থেকেই আসছে এসব পণ্য। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‌্যাব।

কক্সবাজার-বান্দরবানের এই সীমান্ত এলাকায় এটাই প্রথম অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নয়। এখানকার বিশাল পাহাড়ি এলাকাকে বারবার নিজেদের ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো।

এ পথ দিয়ে তারা বিদেশি অস্ত্র আনছে। শুধু তাই নয়, এ পথে বড় চালানের বস্তু হলো মাদকদ্রব্য। আর সেই মাদক বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা হচ্ছে অস্ত্রের কারখানা। নাশকতা চালানো হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন জায়গায়, যা ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

সীমান্ত এলাকার লোকজন এবং সংবাদকর্মী নুরুল আলম সাঈদ ও আমিন উল্লাহ বলেন, সীমান্ত এলাকাগুলো সবসময়ই অস্থিতিশীল হয়। আর কক্সবাজার-বান্দরবানের স্থানীয় লোকদের সঙ্গে অনেক মিল থাকায় খুব সহজেই রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যেতে পারছে। ফলে রোহিঙ্গাদের অপরাধের সুযোগ বেশি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তত ২৯টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পার হয়ে অস্ত্র ও মাদক ঢুকছে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ করিডোর, টেকনাফ জালিয়াপাড়া, কেরুনতলী, হ্নীলা চৌধুরীপাড়া, নয়াপাড়া, আমতলী, উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া, ঘুমধুম ও তুম্বুরু সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র মাদক প্রবেশ করছে প্রতিনিয়ত।

এসব অস্ত্র ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে অধিকাংশই রোহিঙ্গা নাগরিক। তবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর ও নাইক্ষ্যংছড়ির অর্ধশত চিহ্নিত গডফাদার।

এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় বাঙালি ছাড়াও জড়িত রয়েছে রোহিঙ্গা ১৯টি জঙ্গি সংগঠনের শতাধিক সন্ত্রাসী। তাদের নিয়ন্ত্রণে চলছে সোনা চোরাচালান, হুন্ডি, মাদকদ্রব্য ও মানবপাচার। রোহিঙ্গাদের এসব অপকর্মে আতঙ্কিত স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও উখিয়া ও টেকনাফে মাদকের এত বেশি ছড়াছড়ি ছিল না। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা আসার পর থেকে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এ জনপদ। তারা প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত চার বছরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ১২ ধরনের অপরাধে ১ হাজার ২৯৮টি মামলা হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত আসামি হয়েছেন ২ হাজার ৯৫০ জন রোহিঙ্গা। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদকপাচার, মানবপাচার, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা। এ সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭১টি খুন, ৭৬২টি মাদক, ২৮টি মানবপাচার, ৮৭টি অস্ত্র, ৬৫টি ধর্ষণ ও ১০টি ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৩৪টি মামলা হয়েছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধে। অন্যান্য অপরাধে হয়েছে ৮৯টি মামলা।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.