বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

খবরের শিরোনাম:
থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ছয় দিনের সফরে থাইল্যান্ডের পথে প্রধানমন্ত্রী নবীগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল শায়েস্তাগঞ্জে রাজাকারের নামে ২টি রাস্তা নামকরণ বাতিলের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ শায়েস্তাগঞ্জে সার-বীজ বিতরণ করলেন এমপি আবু জাহির রাজনগর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর শায়েস্তাগঞ্জ ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক ভিডিওকলে মাধবপুরের রেহানাকে বাঁচানোর আকুতি, ‘আমি আর সহ্য করতে পারতেছি না’ মৌলভীবাজারে চা-শ্রমিকের ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আখাউড়ায় বাড়ছে কালোজিরা ধান চাষ উৎপাদন কম হলেও লাভ দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে কালিজিরা জাতের ধান চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় কৃষকদের মধ্যে কালিজিরা ধান খুবই জনপ্রিয় ছিল। প্রায় ৩০ বছরের ব্যবধানে উফশি ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান জায়গা দখল করে নিলে ও সৌখিন কৃষকরা এ ধানকে আজো ধরে রেখেছেন।

দিনে দিনে বাড়ছে এ ধানের আবাদ। সুগন্ধযুক্ত এ ধানের চালের ভাত খেতে সুস্বাদু। এছাড়া বাজারে ভালো দাম থাকার কারণে সৌখিন কৃষকরা এ জাতের ধান আজও আবাদ করছেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সারাদেশ থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিবান্ধব নানা জাতের দেশীয় প্রজাতির ধান। এ উপজেলায় কালিজিরা ধানের বেশ পরিচিতি রয়েছে। এ জাতের ধান সাধারণত কালো বর্ণের হয়। অন্য ধানের চেয়ে এর আকার ছোট হয়। তাছাড়া অন্য জাতের ধান আবাদে বিঘা প্রতি যেখানে ১৫-২০ মণ ধান পাওয়া যায়, যেখানে কালিজিরা ধান আবাদে ৫-৭ মণের বেশি পাওয়া যায় না। তবে বাজারে দাম পাওয়া যায় দ্বিগুণেরও বেশি।

সেই সঙ্গে সার, সেচ ও পরিচর্যাও কম লাগে। সে হিসেবে আবাদে লোকসান হয় না বললেও চলে। এখনো গ্রামের সৌখিন গৃহস্থ পরিবারের কাছে এ ধানের কদর রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি এ জাতের ধানের চাল বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে এ ধানের চাল সচরাচর সব জায়গায় পাওয়া যায় না।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ১৭০ বিঘা জমিতে কালিজিরা ধান আবাদ করা হয়। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ও প্রকৃতি ধান চাষের অনুকূলে থাকায় মাঠে কোনো রোগ বালাই না হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষকরা সুগন্ধি জাতের এ ধানে এক প্রকার চমক সৃষ্টি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, উপজেলার নারায়ণপুর, উমেদপুর, আদমপুর, ধাতুরপহেলা, তুলাবাড়ি, মোগড়া, দরুইনসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের পাশাপাশি সৌখিন কৃষকরা সুগন্ধি জাতের কালিজিরা ধান আবাদ করেছেন। মাঠ জুড়ে এখন সুগন্ধি ধানের সমারোহ। এরই মধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে পুরোদমে ধান কাটা। তবে মাঠজুড়ে কালিজিরা ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। এ মৌসুমে ধান চাষে রোগ বালাই না থাকার ফলে ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা খুবই খুশি।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ জাতের ধান আগে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আবাদ হতো। কিন্তু এসব ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষকরা বীজ আমদানির ওপর নিভর্রশীল হয়ে পড়েন। এর ফলে সৌখিন কৃষকরা জনপ্রিয় কালিজিরা, বেগুনবিচি, জামাইভোগসহ নানা জাতের দেশি ধান ধরে রেখেছেন। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এ জাতের ধান আবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বা প্রদর্শনী গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো বলেন, গত মৌসুমে প্রতি কেজি কালিজিরা ধানের চাল একশ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। সাধারণত আমন মৌসুমে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের চাল বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দ্বিগুণ লাভের আশায় কালিজিরা ধানের আবাদ করি। সুগন্ধি যুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় কালিজিরা কদর ও রয়েছে বেশ।

কৃষক মো. আব্দুল কাদের বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ৩০ শতক জায়গায় কালিজিরা ধান আবাদ করছি। অন্যান্য ধানের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কালিজিরা চাল বিক্রি হয় একশ টাকা দামে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৭-৮ হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারব।

আদমপুর গ্রামের কৃষক তামসু মিয়া জানান, একসময় অবস্থা সম্পন্ন সৌখিন কৃষকরা সুগন্ধি কালিজিরা ধান চাষ করতেন। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ ধানের চাষ করছেন। এই মৌসুমে তিনি ২৫ শতক জায়গায় ধান কালিজিরা ধান আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম  বলেন, এ উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে কালিজিরা ধান চাষ হয়। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের ফলন কম হয় বিধায় কৃষকরা এ ধানের চাষ কম করেন। স্থানীয় কৃষকরা নিজ আগ্রহে এ জাতের ধান চাষ করছেন। এ ধানটি দেশীয় জাতের ধানের মধ্যে অন্যতম। উৎপাদন খরচ কম ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে। ধানের ফলন ভালো রাখতে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.