রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর যেভাবে মুক্ত হয় হবিগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে হবিগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। মুক্ত হয় হবিগঞ্জ জেলা। আজ হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন, বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে হবিগঞ্জ জেলা এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

যেভাবে মুক্ত হয় হবিগঞ্জ ঃ- ডিসেম্বরের শুরুতে জেলা শহরের কাছাকাছি এসে পৌঁছায় মুক্তিবাহিনী। এ সময় হবিগঞ্জ শহরতলীর সুলতান মাহমুদপুর গ্রামের তৎকালিন সেনা সদস্য আব্দুস শহিদের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর ৩৪ সদস্যের একটি দল অবস্থান নেন বাহুবল উপজেলার বক্তারপুর-সারংপুর এলাকায়। সেখানে বসেই পরিকল্পনা হয় হবিগঞ্জ শহর মুক্ত করার। পরিকল্পনা অনুযায়ি নিয়োগ করা হয় ৪ জন ‘গাইড।’ এরা হলেন, হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার মরহুম সিরাজুল ইসলাম ও মোঃ বাচ্চু মিয়া, মোহনপুর এলাকার মোঃ সিরাজ উদ্দিন এবং শহরতলীর আনন্দপুর গ্রামের আঞ্জব আলী। এদিকে, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগরস্থ ওয়ারলেস অফিসে ক্যাম্প স্থাপন করে পাকবাহিনী। ৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১টায় গাইডদের সহযোগীতায় খোয়াই নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে বসেই ছুঁড়তে থাকেন ফাঁকা গুলি। অসংখ্য-অগনিত গুলির বিকট শব্দে ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। কয়েক ঘন্টাব্যাপি লাখো-লাখো গুলির শব্দে শহরের মানুষও আতংকিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে ৬ ডিসেম্বর ভোরে হবিগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী। সকালে শহরে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে হবিগঞ্জ শহরকে শত্রæ মুক্ত ঘোষনা এবং বিজয় মিছিল করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড’র সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহিদ জানান, হবিগঞ্জ শহর মুক্তকারী মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৪ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম তিনি স্বরণে রাখতে পেরেছেন। এরা হলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা হাওয়ালদার আবু মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক হাবিব, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, বীরমুক্তিযোদ্ধা আশ্বব আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, বীরমুক্তিযোদ্ধা ছাবু মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া (সুলতানশী), বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া (সুলতান মাহমুদপুর), বীরমুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফটিক মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান, বীরমুক্তিযোদ্ধা রইছ আলী ও বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী। আর এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি নিজেই।
প্রসঙ্গত, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড?া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে বি.বাড়িয়া মহকুমার একাংশ ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে ছিল ৩নং সেক্টর। এ সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন মেজর শফিউল্লাহ। তার নেতৃত্বে সীমান্তের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে জেলার ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আহত হন ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়া হানাদারদের নির্মম নিষ্ঠুররতার শিকারে শহীদ হন অসংখ্য নারী-পুরুষ। এখনও অনেক মুক্তিযোদ্ধার কবর চিহ্নিত বা সংরক্ষণ করা হয়নি।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.