সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

আজ বাঙালীর আদি ঐতিহ্য পৌষ সংক্রান্তি

ইশতিয়াক শোভনঃ পৌষ বিদায়ের দিনটি চলে এলো। আজ শুক্রবার মাসের শেষ দিন। আর পৌষের শেষ দিন মানেই বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি। একইদিনে পুরান ঢাকা মাতবে সাকরাইন উৎসবে। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালীর একেবারে প্রাচীন উৎসবগুলোর একটি। এক সময় বেশ ঘটা করে উদ্যাপন করা হতো। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় এ উপলক্ষে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালনের রীতি প্রচলিত ছিল। এখন যে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে এমন নয়। বরং ঐতিহ্যপ্রেমী শহুরে মানুষও উদ্যাপন করে পৌষ সংক্রান্তি।
পৌষ সংক্রান্তিকে পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তিও বলা হয়ে থাকে। এটি মূলত জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি ক্ষণ। মকর সংক্রান্তি বলতে, নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশের ক্ষণটিকে ইঙ্গিত করা হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠা-পুলির আয়োজন করা হয়। গ্রীষ্মকালে পিঠা-পুলি অত রুচিকর হয় না। এ কারণে শীতকালে বেশি আয়োজন করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবের মধ্যে পৌষ সংক্রান্তি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে।
লোকজ সংস্কৃতির গবেষকদের মতে, মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পিতৃপুরুষ ও বাস্তুদেবতার জন্য তিল কিংবা খেজুর গুড় দিয়ে তিলুয়া তৈরি করত। নতুন চালে তৈরি করা পিঠার অর্ঘ্য দান করত। এ কারণে পৌষ সংক্রান্তির আরেক নাম তিলুয়া সংক্রান্তি বা পিঠা সংক্রান্তি। এ দিন বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু-কিশোররা বাস্তুর গান, কুলাইর ছড়া, হোলবোলের গান, বাঘাইর বয়াত গেয়ে চাল ও অর্থ সংগ্রহ করে পৌষপালা, বনভোজন ইত্যাদির আয়োজন করে। একই দিন দধি সংক্রান্তির ব্রতের শুরু হয়। এই ব্রতে প্রতি সংক্রান্তিতে ল²ীনারায়ণকে দধি দ্বারা স্নান করিয়ে ব্রাহ্মণকে দধি ও ভোজদান করা হয়। তাই বলে পৌষ সংক্রান্তিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিশেষ সুযোগ নেই।
লেখক যতীন সরকারের মতে, কারও কারও মনে হতে পারে, পৌষ সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বৈ কিছু নয়। বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আবহমান কাল থেকেই বাংলায় ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ নীতি। ফলে পৌষ সংক্রান্তিও বাঙালীর প্রতি ঘরে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। অবশ্য এখন অনেক কিছুই আগের মতো নেই। হয় না। প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে উৎসবে কিছু যোগ করেছেন। কিছু বিয়োগ। এভাবে স্বতন্ত্র মাত্রা পায় পৌষ সংক্রান্তি।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.