রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার শতবছর ধরে শতাধিক পরিবার আগলে রেখেছেন ঝাড়ু শিল্পকে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এলংগী পাড়ায় বংশ পরম্পরের ঐতিহ্য হিসেবে প্রায় শতবছর ধরে শতাধিক পরিবার সন্তানের মতাই বুকে আগলে রেখেছেন ঝাড়ু শিল্পকে। আঞ্চলিক ভাষায় এটাকে বারুন বলা হয়। বারুন বা ঝাড়ু পট্টি হিসেবেই বেশি পরিচিত এলাকাটি।

কিন্তুু ঝাড়ু বা বারুন তৈরিতে এই এলাকার শত বছরের ঐতিহ্য থাকলেও মেলেনি কুটির শিল্প হিসেবে বিসিকের স্বীকৃতি। সহযোগীতার হাত বাড়ায়নি কোনো সংস্থা। ফলে তাদের ভাগ্যের বদলও ঘটেনি। শুধু তাই নয়, মহামারি করোনা ভাইরাসের কোনো প্রণোদনাও জুটেনি তাদের ভাগ্যে।

ঝাড়ু পট্টি কারিগরদের এমন দুঃখ দুর্দশার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে যান ইউএনও বিতান কুমার মণ্ডল। তিনি প্রায় ২০ টি ঝাড়ু কারিগর বাড়ি ও কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জানা গেছে, প্রায় শত বছর আগে ইসমাইল নামের একজন কারিগর এই অঞ্চলে প্রথম শুরু করেছিল ঝাড়ু বা বারুন তৈরির কাজ। এরপর ইসমাইলের ছেলে সেলিম ও তার ছেলে কালামের হাত বদলিয়ে বংশ পরম্পর চলে আসছে এই শিল্পটি। যান্ত্রিক যুগে ঝাড়ু বা বারুনের বিকল্প যন্ত্র তৈরি হলেও এই এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার এখনও আগলে রেখেছে শিল্পটি।ঝাড়ু বা বারুন তৈরির প্রধান কাঁচামাল ছন খড়। এখানকার কারিগরদের দূরদূরান্ত থেকে কিনে আনতে হয় ছন বা খড়। বছরের চৈত্র, বৈশাখ মাসসহ বছরে মাত্র কয়েকমাস পর্যাপ্ত ছন খড় পাওয়া যায়। কিন্তু সারাবছর কাজ চলমান রাখার জন্য কাঁচামাল কিনে মজুদ রাখতে হয়।

এখানকার কারিগররা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় পর্যাপ্ত কাঁচামাল কিনে মজুদ করতে পারেন না। অনেকে বেসরকারি বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কাঁচামাল সংরক্ষণ করেন। কিন্তু সেখানে অধিক সুদ হওয়ায় প্রতিবছর ঋণ নিয়ে কাঁচামাল মজুদ করা সম্ভব হয় না।মূলত বাসাবাড়ি কিংবা অফিস, হোটেল বা রেস্টুরেন্ট, রাস্তাঘাটসহ সব স্থানে পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজে ব্যবহৃত হয় হাতে তৈরি ঝাড়ু বা বারুন।এটাকে এক প্রকার কুটির শিল্পও বলা হয়। এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ছন খড়। যা প্রাকৃতিক উপায়ে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেশি জন্মে। নদী এলাকা ছাড়াও কৃষকের পতিত উঁচু ভূমিতেও দেখা মেলে ছন খড়।

ইউএনও বিতান কুমার মণ্ডল জানান, প্রায় শতাধিক পরিবার শতবছর ধরে এলংগী এলাকায় ঝাড়ু তৈরির কাজ করছে। উদ্যেক্তার খোঁজে এলাকা ও তাদের কাজ পরিদর্শন করেছি। তাদের ভাগ্যবদলে ও কাজটিকে আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা হবে।

 

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.