রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

কুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ছাত্রশৃংখলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬তম (জরুরি) সভায় উত্থাপন করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যাদি পর্যালোচনা করে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃংখলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণ এর আওতায় সিন্ডিকেট নিম্নবর্ণিত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা হলেন সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিএসই বিভাগ, মো. তাহামিদুল হক ইশরাক, সিই বিভাগ, মো. সাদমান সাকিব, এলই বিভাগ, আ. স. ম. রাগিব আহসান মুন্না, এলই বিভাগ, মাহমুদুল হাসান, সিই বিভাগ, মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, এমই বিভাগ, মো. রিয়াজ খান নিলয়, সিএসই বিভাগ, ফয়সাল আহমেদ রিফাত, মো. নাইমুর রহমান অন্তু, এমএসই বিভাগ।

এছাড়া কুয়েট ৭৬ তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত অপরাধীদের শনাক্তকরণসহ সংশ্লিষ্ট আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করত: সুপারিশসহ রিপোর্ট প্রদান করার জন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নতুন ক‌রে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ, সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. আলহাজ উদ্দীন, বহি: সদস্য পুলিশ কমিশনার, কেএমপি, খুলনা এর মনোনিত একজন প্রতিনিধি এবং বহি: সদস্য জেলা প্রশাসক, খুলনা এর মনোনিত একজন প্রতিনিধি (ন্যুনতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদা সম্পন্ন)।

কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে তদন্ত করত: সুপারিশসহ রিপোর্ট ভাইস-চ্যান্সেলর বরাবর দাখিল করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বের গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করা হয়েছে ব‌লে বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের এক বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন মারা যান। তিনি লালন শাহ ছাত্র হলের প্রভোস্ট ছিলেন। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুর আগে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন ওই শিক্ষক। লালন শাহ ছাত্র হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে ছাত্র সংগঠনের কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তারা তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিতো।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.