রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

গাড়ি চোর চক্রের মূলহোতা ‘চশমা তারেক’ ডিবির হাতে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের গডফাদার ‘চশমা তারেক’ কে হবিগঞ্জ থেকে আটক করেছে ঢাকা ডিবি পুলিশ। এ সময় ৩টি চোরাই প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ভূয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়। সে হবিগঞ্জ শহরের শ্যামলী এলাকার রহমান আলীর পুত্র। তার পুরো নাম তারেকুল ইসলাম অলি (৩৫)। তবে সকলের কাছে সে ‘চশমা তারেক’ নামেই পরিচিত। যদিও তেমন একটা লেখাপড়া করেনি সে। অষ্টম শ্রেণি পাস করে সে হবিগঞ্জ শহরে আসে। কয়েক বছর আগেও যার নুন আনতে পান্তা ফুরাতো সে আজ কোটি টাকার মালিক। সূত্র জানায়, কতিপয় অসাধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় থেকেই সে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা মিন্টু রোড এলাকার ডিবি পুলিশের সিনিয়র এএসপি আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্বে একদল পুলিশ হবিগঞ্জ সদর পুলিশকে নিয়ে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে উমেদনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে। এ সময় তার আরো কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যায়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। এছাড়াও আরও দুইটি কালো ও লাল প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। তবে
এগুলো কোনোটিরই বৈধকাগজপত্র নেই। যদিও কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরিত নিলামের কিছু ডকুমেন্ট দেখানো হয়েছে, সেগুলোও ভূয়া। ইতোপূর্বেও হবিগঞ্জ শহরে অভিযান চালিয়ে ৪/৫টি দামি প্রাইভেটকারসহ গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের দুই জনকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে। ওই সময় তারেক আত্মগোপনে চলে যায়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও সে হবিগঞ্জ শহরে এসে পুনরায় চোরাই গাড়ির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
গত ২১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাফরুল থানার বিআরটিএ অফিসের সামনে থেকে একজন সংসদ সদস্যের কন্যার একটি দামি প্রাইভেটকার চুরি হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের (গোয়েন্দা) পুলিশ সংঘবদ্ধ অপরাধ কাউন্টার টেরোরিজিম, গাড়ী চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জে প্রায় ২০টি চোরাই গাড়ি রয়েছে ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।
জানা যায়, ‘চশমা তারেক’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খাতায় চোরাকারবারি হিসেবে তালিকাভূক্ত। হবিগঞ্জ শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় তার রয়েছে একটি চমশার দোকান। যে কারণে সে শহরে ‘চশমা তারেক’ নামে পরিচিত। মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিতে চশমা ব্যবসার আড়ালে সে গড়ে তুলেছে চোরাকারবারির বিশাল সিন্ডিকেট। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার একাধিক প্রশিক্ষিত গাড়ি চোর চক্র। এসব চক্রের মাধ্যমে গাড়ি চুরি ও বেচা-কেনা করে থাকে সে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের চোরাই পথে চা-পাতা, গাড়ির টায়ার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন দ্রব্য অবৈধ ভাবে আমদানি-রপ্তানি করে আসছিল।
এ বিষয়ে অভিযান দলের প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জ জেলায় একটি গাড়ি চোর চক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। এ চক্রের মূল হোতা তারেক। তাকে আটক করা হয়েছে এবং এ চক্রের সাথে আর কারা কারা জড়িত রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদঘাটন করা হবে। এ ছাড়া হবিগঞ্জে আরও ১০/১৫টি চোরাই গাড়ি রয়েছে। এগুলোও উদ্ধার করা হবে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.