মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪৫ অপরাহ্ন

খবরের শিরোনাম:

চাঁদপুরে লন কার্পেট ঘাস চাষ

চাঁদপুর প্রতিনিধি,সবুজ মোলায়েম লন কার্পেট ঘাস। দেখলে সত্যিকারের কার্পেটই মনে হবে। কিন্তু না! এ ঘাস এখন চাষ হচ্ছে চাঁদপুরে। বাণিজ্যিকভাবেই পতিত জমিতে এর চাষ করছেন গোলাম রাব্বি। বাড়ি বা অফিসের আঙিনায়, বাগানে, কবরস্থানে, পাহাড়ের সৌন্দর্য বাড়াতে কিংবা পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে এ কার্পেট ঘাস। বর্তমানে চাঁদপুর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশে এ ঘাস বাজারজাত করা হচ্ছে।

রাব্বির বাড়ি চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার লোহারপুল এলাকায়। দুই বছর আগে টাকার বিনিময়ে সদর উপজেলার বহরিয়া দোকানঘর এলাকায় প্রায় চল্লিশ শতাংশ পরিত্যক্ত জমি নিয়ে পরীক্ষামূলক পরিবেশবান্ধব এ ঘাসের চাষ শুরু করেন।

গোলাম রাব্বি বলেন, দীর্ঘ প্রায় সাত বছর বাহরাইন ছিলাম। সেখানেই এ লন কার্পেট ঘাসের চাষ শিখি। সেখানে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এ সবুজ কার্পেট ঘাস ব্যাপক ব্যবহার হতো।

তিনি বলেন, বাহরাইন থেকে দেশে ফেরার পর বিদেশে যেতে আর ভালো না লাগছিল না। পরে বাড়ির কাছেই দোকানঘর জাফরাবাদ এলাকায় ফসলহীন একটি উঁচু জমি খুঁজে বের করি।

এ ঘাসের বীজ সংগ্রহ করে প্রথমে সেখানে প্রায় চল্লিশ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ ঘাসের চাষ শুরু করি। যখন দেখলাম এখানেও এটি করা যাবে। তখন আস্তে আস্তে জমিও বাড়াতে থাকি। পরবর্তীতে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেই। বিষয়টি সারাদেশের মানুষের নজরে আসায় আমার এ প্রকল্পটিও বাড়তে থাকে। এভাবে বর্তমানে ওই এলাকায় আমার চারটি স্থানে এ ঘাস চাষ হচ্ছে।

গোলাম রাব্বি বলেন, লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় এ ঘাস এখন অনলাইনে বসেই সারাদেশে বিক্রি করছি। প্রয়োজনে নিজ লোক দিয়েও পৌঁছে দিচ্ছি। বর্তমানে এ ঘাস চাষ প্রকল্পে ৩০-৪০জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে নিজেও স্বাবলম্বী হচ্ছি। আমার এ ঘাস চাষ দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়ে সরাসরি কিনে নিচ্ছেন। আমার এখান থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাংলো ও মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসের জন্য চার হাজার স্কয়ার ফিট এ কার্পেট ঘাস কিনে নিয়ে যায়। যার স্কয়ার ফিট পড়ে মাত্র ৮০ টাকা করে।

গোলাম রাব্বি বলেন, মূল নাম মেক্সিকান-বারমুডা গ্রাস। লন কার্পেট ঘাস হিসেবে বেশি পরিচিত। আমাদের দেশে অনেকে কার্পেট ঘাস নামে ডাকেন।

চারা আনার পর এরপর তা ছোট ছোট টুকরো করে ‘মুড়া’ বানিয়ে পতিত জমিতে পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর হালকা মাটি দিয়ে রোদে দেন। কয়েকদিন অল্প করে পানি দেন। প্রতি মাসে অন্তত একবার রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। কার্পেটের মতো রাখতে ১৫ দিন পর পর কাঁচি দিয়ে আগা ছাঁটা হয়। বর্তমানে তিনি এ ঘাস প্রতি বর্গফুট বিক্রি করছেন ৮০ টাকায়।

রাব্বি বলেন, এতদিন লাভের মুখ দেখিনি। এখন তা হতে পারে। এরই মধ্যে এ ঘাস চট্টগ্রাম, সিলেট, গাজীপুর, নরসিংদী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ অনেক জেলায় বিক্রি হয়েছে। এ ঘাস নিতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো জেলা থেকে আগ্রহীরা যোগাযোগ করছেন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.
Developed by DesigUs