বুধবার, ০৭ Jun ২০২৩, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

জগদীশপুর জে. সি হাইস্কুল এন্ড কলেজ ২ ধরে ধরে বেতন পান না ৭ শিক্ষক

মাধবপুর প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুরে জগদীশপুর যোগেশ চন্দ্র হাইস্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখার ৩ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের বেতনের বিদ্যালয় প্রদত্ত অংশ পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। অপরদিকে, কলেজ শাখায় কর্মরত নন-এমপিও ৪ শিক্ষককেও ফান্ড না থাকার অজুহাতে ২ বছরের বেশি সময় ধরে বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করলেও অজ্ঞাত কারণে কেউই সরাসরি কিছু বলতে চাইছেন না। বেতন না পাওয়ার কারণে হুমায়ুন কবির নামের কলেজ শাখার শিক্ষক চাকুরি ছেড়ে চলে গেছেন।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিদ্যালয় শাখার এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষক অঞ্জলি রানী পাল, লুৎফুন্নাহার ও লক্ষ্মী রাণী ভৌমিক দশম গ্রেডে ১০ বছর পূর্তির কারণে সরকারিভাবে প্রদত্ত টাইমস্কেল না পেয়ে তাদের বেতনভাতার বিদ্যালয় প্রদেয় অংশ যাতে নবম গ্রেডের চাকুরিজীবীদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেওয়া হয় এই মর্মে একটি আবেদন করলে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আসগর আলী তাদের আবেদন বিবেচনার জন্য জোর সুপারিশ করে গভর্নিং বডিতে উপস্থাপন করেন। গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই শিক্ষকদের আবেদনটি অনুমোদিত হয়।২০২০ সালে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিএড ডিগ্রি অর্জনেরও ১০ বছর পূর্ণ হলে তারা তাদেরকে উচ্চতর আর্থিক সুবিধার আওতায় নেওয়ার জন্য আবেদন করলে গভর্নিং বডির সভায় তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করে সেই অনুযায়ী আর্থিক সুবিধাদি দেওয়া হয়।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক নুরুল্লাহ ভুঁইয়া ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালের ১৫ জুন এসব শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে বাড়তি আর্থিক সুযোগসুবিধা নিচ্ছেন কিনা তা নিরূপণের জন্য একটি উপকমিটি গঠিত হয়। নুরুল্লাহ ভুঁইয়া নিজেই এ উপকমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পান। কমিটির পর্যবেক্ষণে ওই ৩ শিক্ষক প্রত্যেকে ৫৩ হাজার টাকার কিছু বেশি গ্রহণের বিষয়টি নজরে আসলে তা ফেরত দিতে বলা হয়। আগের কমিটির সিদ্ধান্তে গৃহীত বাড়তি আর্থিক সুবিধা ফেরত দেওয়ার কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন ওই ৩ শিক্ষক। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করেন। তারপর থেকে স্কুল প্রদত্ত বেতনের টাকা আর উত্তোলন করেননি তারা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী শিক্ষা অফিসার, ধর্মঘর কলেজের অধ্যক্ষ, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ মার্চ সবদিক বিবেচনাক্রমে ওই ৩ শিক্ষকের গৃহীত অর্থ অফেরতযোগ্য বিবেচনা করার সুপারিশ সম্বলিত তদন্ত রিপোর্ট তৎকালীন ইউএনও’র কাছে পেশ করেন।

জানা যায়, ২০২১ সালের মে মাস থেকেই উক্ত ৩ শিক্ষক বেতনের বিদ্যালয়ের অংশ পাননি। আজ পর্যন্ত এ বিষয়টির সুরাহা হয়নি।

অপরদিকে, প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৩ সালের শেষে একাদশ শ্রেণি চালু করার পর ২০১৪ সালে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ধরা হয় ৫ হাজার টাকা করে। পরবর্তীতে তাদের বেতন ১২ হাজার ৫শ টাকায় উন্নীত করা হলেও প্রায় ২ বছর ধরে তহবিল না থাকার অজুহাতে এসব শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। ক্রমাগত বেতন বন্ধ থাকায় হুমায়ন কবির রিপন নামের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ২০২২ সালের মার্চ মাসে চাকুরি ছেড়ে চলে গেছেন। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি মিলে এখানে কলেজ শাখাতে ২ শ ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি পায় ৩০ জন। উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিপরীতে সরকার প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তুকি হিসেবে যে আর্থিক প্রণোদনা দেয় সেই টাকাও প্রতিষ্ঠানটির তহবিলে জমা করা হয় না বলে কলেজ শাখার শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন।

ম্যানেজিং কমিটির স্কুল শাখার সদস্য সৈয়দ শামসুল আরেফিন রাজিব জানান, ‘প্রায় ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত যে প্রতিষ্ঠানে সেখানে ফান্ড না থাকার কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বছরের পর বছর শিক্ষকদের বেতন না দেওয়া দুঃখজনক।’

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির খান জানান, স্কুল শাখার শিক্ষকদের বেতন জটিলতার বিষয়টি তার আগের সভাপতির সময়ের। তবে শিক্ষকদের বেতন বিষয়ক জটিলতা নিরসনে শীঘ্রই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল্লাহ ভুঁইয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহসান এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.
Developed by DesigUs