রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

জনশক্তি রফতানি খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান এফবিসিসিআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নশক্তি রফতানি খাতে সরকারের নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এফবিসিসিআই) জনশক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি।

এফবিসিসিআই’র জনশক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার এফবিসিসিআই ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মেদ ফারুক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক করোনা মহামারি শুরুর আগে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রচ্যগামী উড়োজাহাজের টিকেটের দাম ছিলো গড়ে ৫০ হাজার টাকা। এখন তা দ্বিগুণ বেড়ে লাখ টাকার উপরে গেছে। মধ্যপ্রচ্যগামী উড়োজাহাজের টিকেটের চড়া দামে ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিবাসী কর্মীরা। সেইসঙ্গে বিপাকে পড়েছে জনশক্তি রফতানিকারকরাও।

আরো পড়ুন> সুখবর আসছে, ই-কমার্সে আটকা টাকা ফেরত পাবেন যারা

সভায় জনশক্তি রফতানিকারকদের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান টিকেটের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। শিগগিরই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওরস (এসওপি) প্রণয়নের কথা রয়েছে।

সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্য সদস্যরাও জনশক্তি খাতে সিন্ডিকেটের ব্যাপারে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। নেপাল, ভারত, ও পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে তারা জানান, প্রতিটি দেশেই দেড় হাজারেরও বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রফতানি করছে। বাংলাদেশে এ সুবিধা গুটিকয়েক এজেন্টের হাতে রাখার তীব্র বিরোধিতাও করেন তারা।

এ খাতে সিন্ডিকেট ভাঙতে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এফবিসিসিআই’র মনোনীত সদস্যকে অর্ন্তভুক্ত করার দাবি জানান জনশক্তি রফতানিকারকরা।
এছাড়াও এ সভায়, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন সংশোধন, রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনার হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আরো পড়ুন> মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে খরচ হতে পারে লাখ টাকার কম, ইঙ্গিত প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর

এছাড়াও, এফবিসিসিআই’র জনশক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির এ সভায় জনশক্তি রফতানিখাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো এফবিসিসিআই’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মহামারির মন্দা মোকাবিলায় জনশক্তি খাতকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার সুপারিশ করেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি ও জনশক্তি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ডিরেক্টর-ইন-চার্জ মো. হাবীব উল্লাহ ডন।

তিনি জানান, দেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখছে জনশক্তি খাত। তাই এ খাতটির ব্যাপারে তারা সরকারের কাছ থেকে বাড়তি মনোযোগ আশা করছেন। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য জনশক্তি রফতানিকারকদের সরকারিভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেয়ারও তাগিদ দেন তারা।

এ সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান রিয়াজ-উল-ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মুস্তাফা (বাবুল), বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মেদ সেরাজ মিয়া, মফিজ উদ্দিন, মো. রেদওয়ান খান (বোরহান) ও কাজী এম এ কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, এফবিসিসিআই’র পরিচালক আমজাদ হোসাইন ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.