বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

জেলাজুড়ে জেল-জরিমানায়ও থামছে না অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুরসহ জেলাজুড়ে জেল-জরিমানা করেও থামানো যাচ্ছে না অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনকারীদের। দিন দিন যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। দিনে কিংবা রাতে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে অবৈধভাবে এসব মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন চলছেই। বালুকেখোদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না পাহাড়, নদী ও ফসলি জমি। ফলে ওইসব এলাকায় প্রকৃতি যেমন হারাচ্ছে তার ভারসাম্য তেমনি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে রাস্তা-ঘাটের। তাই এসব বন্ধে ও মূলহোতাদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার দাবী স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা এলাকার কতিপয় কিছু ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। মাঝেমধ্যে তারা প্রশাসনের সাথেও
গড়ে তুলছেন সখ্যতা। যার ফলে দাপটের সাথে তারা এসব অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওইসব প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার সাহস পায় না স্থানীয়রা। তবে তাদের দাবী প্রশাসন যেন তাদের কঠোর ভাবে দমন করে। প্রশাসন বলছে, অবৈধ ভাবে যারা বালু ও ফসলি জমি কিংবা পাহাড় থেকে মাটি কাটছে তাদের কোন ছাড় নেই। প্রতিনিয়ত তাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার পুটিজুড়ি, কল্যাণপুর রুপাইছড়া, সুন্দ্রাটিকি, মিরপুর, চুনারুঘাট উপজেলার খোয়াই নদী, সুতাং নদী, মুড়িছড়া, ইছালিয়া, রাজার বাজার, রাকি, বনগাও, ঝাড়–লিয়া, খেলার ঘাট, বদর গাজী, আমতলী ও মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী, আন্দিউড়া, বৈকন্ঠপুরসহ প্রায় শতাধিক স্পটে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন। আর বালু উত্তোলনের ফলে ওইসব এলাকায় রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ভাঙণসহ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও রাস্তার পাশে অবৈধ বালু স্তুপ করে রাখার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা।
এদিকে, সবশেষ গত ৩ মার্চ চুনারুঘাটের মুড়িছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে বালু তোলার অপরাধে ৫ শ্রমিককে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। পরে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও শনখলা ইউনিয়নের দেউন্দি রোড এলাকায় ফসলি জমির মাটি এক্সেভেটর দিয়ে কেটে নেয়ার ফলে ১ জনকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সামছুর রহমান, আপন মিয়া ও আমান উল্ল্যাহসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বালুখেকোরা যদি প্রশাসন থেকে ১টি স্পট ইজারা নেয় তা হলে তারা আশপাশের আরো ৪/৫টি স্পট থেকে ইজারা বর্হিভূতভাবে বালু উত্তোলন করে। আর এতে করে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তারা বলেন, শুধু নদী থেকে নয় পাহাড় কেটেও ধ্বংস করে দিচ্ছে বালু ও পাহাড়খেকোরা। প্রশাসন নামমাত্র অভিযান চালায়। মাঝে মধ্যে শ্রমিকদের ধরে জেল-জরিমানা দিলেও মূলহোতারা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যায়।
চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিলটন চন্দ্র পাল জানান, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালু উত্তোলনকারীদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হচ্ছে না। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। যা অব্যাহত থাকবে। মূলহোতারা কেন সবসময় ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যাদের পাই তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হয়। কাউকে বাড়ি থেকে বাঅন্যত্র থেকে ধরে এনে জরিমানা কিংবা জেল দেয়ার বিধান ভ্রাম্যমান আদালতের নেই।নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.