মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

ধীরগতিতে নামতে শুরু করেছে হবিগঞ্জের বন্যার পানি আট দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। হবিগঞ্জ সদর, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও লাখাই উপজেলা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে, তা ধীরগতিতে। এদিকে, পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ লোকজনের দুর্ভোগ বাড়তে শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকেই নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে, বাড়িঘরের আশপাশে এখনো জমে আছে পানি। সড়ক পানিতে নিমজ্জিত। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন বাড়ি ফিরতে পারছেন না। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও কুশিয়ারা নদীর পানিতে হবিগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের প্রায় সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের জন্য ইতোমধ্যে ২৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এদিকে বন্যার কারণে গত আট দিন ধরে হবিগঞ্জের ৬টি উপজেলার প্রায় ২০০ গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। এতে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ২১ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ অবস্থায় চুরি-ডাকাতিসহ নানা আতঙ্ক বিরাজ করছে এসব গ্রামগুলোতে। হবিগঞ্জে ১৮ জুন থেকে বন্যা দেখা দেয়। জেলা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৮৮টি গ্রামের ২০ হাজার ৮৯০ জন গ্রাহক বর্তমানে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এর মধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলার ৫৬টি গ্রামের ১৭ হাজার ৪০০, বানিয়াচংয়ের ৪৯টি গ্রামের ২ হাজার, বাহুবলের ৪০টি গ্রামের ১ হাজার, লাখাইয়ের ৩২টি গ্রামের ৩৫০, সদরের ৭টি গ্রামের ৮০ জন এবং আজমিরীগঞ্জের ৪টি গ্রামের ৬০ জন গ্রাহক আছেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি এর দ্বিগুণসংখ্যক গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের মুক্তাহার গ্রামের মনির মিয়া বলেন, রাত হলে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। বর্ষার সময় ডাকাতির আশঙ্কা আছে। এ কারণে রাতে গ্রামবাসীদের পালাক্রমে পাহারা দিতে হয়।
একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের তরুণী প্রীতি দাস বলেন, পানির দুর্ভোগ যেমন-তেমন। রাত্রের অন্ধকারের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আরও ভয়ংকর।
এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের রুবেল হাসান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাঁর মতো শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছে। হবিগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোতাহের হোসেন বলেন, বন্যার কারণে গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখাটা ঝুঁকিপূর্ণ। জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সরবরাহ বন্ধ আছে। তবে যেসব গ্রামগুলোতে পানি কমেছে বা ঝুঁকি কম, সেখানে আজ শনিবার থেকে সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.
Developed by DesigUs