সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:০০ অপরাহ্ন

ধোঁয়ার ইটভাটায় ছড়াচ্ছে সৌরভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটা সময় যেখানে দিন-রাত জ্বলতো আগুন, কাঠপোড়া গন্ধ আর ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হতো। সেখানে আজ ধোঁয়ার পরিবর্তে ছড়াচ্ছে সুগন্ধ।

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতির পাশাপাশি আশেপাশের সবুজ হয়ে যেতো বিবর্ণ, সে পরিবেশ যেন পাল্টে গেছে অল্প সময়েই। চারদিকে এখন ফুল ও ফলের শোভিত বাগান। দৃষ্টিনন্দন এমন বিশুদ্ধ প্রকৃতিতে আকৃষ্ট হচ্ছেন দর্শনার্থীরাও। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় বন্ধ হওয়া একটি ভাটার পরিবেশ ঠিক এমনটাই চোখে পড়েছে। বন্ধ ইটভাটার জায়গায় নার্সারি গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দুই ভাই হোসেন ও মোর্শেদ। তাদের প্রবল ইচ্ছা শক্তিতে একযুগ ধরে পড়ে থাকা ইটভাটায় ফুটেছে ফুল।

দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন ‘আনোয়ার নার্সারি’তে এখন শুধু প্রাকৃতিক নৈসর্গ নয় হাতছানি দিচ্ছে কোটি টাকা আয়েরও। সেখানে সারি সারি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ মাঠজুড়ে একাকার। মাঝে মাঝে হরেক রঙের ফুল গাছ। যেন সবুজ ছড়ানো মাঠে লাল, নীল, হলুদ, সাদার কারুকাজ। এখন সেখানে অক্সিজেনের কমতি নেই। আশপাশে শুধু বিশুদ্ধ বাতাস।জানা গেছে, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতের মোর্শেদ। পরে ২০০৯ সালে চাকরি ছেড়ে তার বেকার ছোট ভাই আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে দেড় একর জমি ইজারা নিয়ে দুই লাখ টাকা পুঁজিতে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। উৎপাদিত বিভিন্ন ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ বিক্রি করে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয় হতো। ব্যয়ের তুলনায় আয় দ্বিগুণ হওয়ায় বর্তমানে তাদের পুঁজি দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ টাকা। সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে ব্যবসার আরো প্রসার ঘটতো বলে জানান তারা।

নার্সারিতে ফলের মধ্যে রয়েছে ড্রাগন, ডুমুর, ব্ল্যাকবেরি, মালবেরি, রাম ভূটান, পাসিমন, স্ট্রবেরি, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের শতাধিক দেশি-বিদেশি গাছ। এসব গাছের মূল্য ৫০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ফুলের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান কেনা, জাপানি চেরি ফুল, চাইনিজ টগর, করবী, ভেলভেটসহ ইত্যাদি গাছ। এছাড়া নানা জাতের কাঠ ও ঔষধি গাছ।

স্থানীয়রা জানায়, আনোয়ার নার্সারি এলাকার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। নার্সারিটি দেখে বেকার যুবকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তারাও নিজেদের জমিতে নার্সারি তৈরির চেষ্টা করছেন।

নার্সারির মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১৬ বছর আগে রাস্তার পাশে একটি ইটভাটা গড়ে উঠে। এর কারণে সেখানে মাটি ও আশেপাশের এলাকায় মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে। পরে আমরা পরিকল্পিতভাবে নার্সারি গড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আরো ভালো কিছু করতে পারবো বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, দুই ভাইয়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সফল ‘আনোয়ার নার্সারির’ আরো সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি। একইসঙ্গে ঋণ সুবিধাসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.