সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:১০ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা স্বামীসহ ৩ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নবীগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূ রাজনা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী স্বামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছের্ র‌্যাব–৯। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। গ্রেফতাররা হলে নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বড় আলীপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার পুত্র ও নিহত রাজনার স্বামী জাকারিয়া মিয়া (২৫), মৃত আনোয়ার মিয়া চৌধুরীর পুত্র সফিক মিয়া চৌধুরী (৫৬) ও তার পুত্র আকরাম চৌধুরী মাসুম (২১)। এর আগে নিহত রাজনা বেগমের ভাই সুফি মিয়া বাদী হয়ে রাজনার স্বামী জাকারিয়া আহমদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় আলীপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার পুত্র জাকারিয়া মিয়ার সাথে পশ্চিম তিমিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের কন্যা রাজনা বেগমের বিয়ে হয়। এরপর থেকে জাকারিয়া ও রাজনা একসাথে সংসার করে আসছিলেন। গত ১০-১২ দিন আগে রসুলগঞ্জ বাজারের সফিক মিয়া চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি বাসা ভাড়া নেন জাকারিয়া মিয়া ও তার স্ত্রী রাজনা বেগম।

এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। গত সোমবার বিকালে রাজনা বেগমের মা রাজনাকে দেখতে ওই ভাড়া বাসায় যান। এ সময় তাদের বসবাসরত ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। এক পর্যায়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মেয়ের রক্তাক্ত দেহ বিছানার উপর পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে আশাপাশের লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিছানার উপর থেকে গলাকাটা অবস্থায় রাজনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় একটি রক্তমাখা বটি দা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে রাজনা বেগমের স্বামী জাকারিয়া মিয়ার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। গত ২ ফেব্রুয়ারী রাজনা বেগমকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে গলাকেটে হত্যা ও সহযোগিতার অভিযোগ এনে নিহত রাজনার ভাই সুফি মিয়া বাদী হয়ে রাজনার স্বামী জাকারিয়া আহমদ, ভাড়া বাসার মালিক সফিক মিয়া চৌধুরী ও তার পুত্র আকরাম চৌধুরী মাসুমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর আসামীদের ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ জেলার সরাজিদখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী রাজনার স্বামী জাকারিয়া মিয়া (২৫) কে গ্রেফতার র‌্যাব-৯। ওইদিন রাতেই র‌্যাব-৯ এর অপর আরেকটি আভিযানিক দল নবীগঞ্জ উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামী ভাড়া বাসার মালিক সফিক মিয়া চৌধুরী (৫৬) ও তার পুত্র আকরাম চৌধুরী মাসুম (২১) কে গ্রেফতার করে।র্ ্যাব -৯ মিডিয়া অফিসার এএসপি সোমেন মজুমদার গণমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার প্রধান আসামী রাজনার স্বামী জাকারিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, জাকারিয়া পেশায় একজন সিএনজি চালক এবং রাজনা বেগমের সাথে ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছর পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সিএনজি কেনার কথা বলে যৌতুকের টাকার জন্য রাজনা এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকালে যৌতুকের টাকার জন্য প্রথমে জাকারিয়া তার স্ত্রী রাজনা বেগমের হাত-পা ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে। ভয়-ভীতি দেখায় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরবর্তীতে জাকারিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করে এবং সিএনজি কেনা বাবদ টাকা না দিলে রাজনাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সে তার স্ত্রীর মুখ উড়না দিয়ে বেধে ফেলে, যাতে চিৎকার করতে না পারে। পরে রান্না ঘরের ধারালো বটি-দা দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করে ঘরের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের দিকে বাসযোগে রওনা হয়ে ঢাকায় চলে যায় জাকারিয়া। ঢাকায় নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে সে তার একসময়কার কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জের লতব্দী এলাকার ইট ভাটায় আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে গমন করে। অতঃপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারী রাত ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার লতব্দী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজনা হত্যার প্রধান আসামী জাকারিয়াকে। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডালিম আহমেদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইতিমধ্যে গ্রেফতার সফিক মিয়া চৌধুরী ও তার পুত্র আকরাম চৌধুরী মাসুমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামী জাকারিয়াকেও কারাগারে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতার আসামীদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে পুলিশ জানায়।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.