সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

নানা আয়োজন শেষ হলো খাসিদের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার কমলগঞ্জে  দিনভর নানা আয়োজন, ঐহিত্যবাহী খাসি পোশাক পরে নাচ-গান, খেলা আর মেলার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো খাসিদের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দিনভর নিজেদের ঐতিহ্যময় কৃষ্টি আর সংস্কৃতি চর্চায় হাসি-আনন্দে পুরাতন দিনগুলিকে বিদায় দিয়ে নতুনকে আহ্বান করে নিলো নৃ-তাত্ত্বিক এই জনগোষ্ঠী।

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের উদ্যোগে মাগুরছড়া পুঞ্জির টিলাঘেরা উদ্যানে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর দিনব্যাপী চলতে থাকে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পাহাড়-টিলার বুকে পান গাছের পরতে পরতে যে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবন গাঁথা ছড়িয়ে আছে তারা হলো ‘খাসি’ সম্প্রদায়। খাসিদের মূল জীবিকা পান চাষ। খাসিয়াদের প্রধান ফসল এই পান বাজারজাত করণের পূর্ব পর্যন্ত উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি মূলত নারীরাই করে থাকেন। তাই ক্রীড়ানুষ্ঠান পর্বে আয়োজন করা হয় ‘পানগুছি খেলা’। গাছ থেকে পান তোলার পর অংশগ্রহণকারীরা বেছে বেছে গুছিয়ে বরজে সাজানো হয় এ খেলায়।

ছিলো ঐতিহ্যবাহী তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তীরন্দাজরা অংশ নেন বিলুপ্তপ্রায় এ খেলায়। উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করে তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠার প্রতিযোগিতা। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই ইভেন্টে বিভিন্ন বয়সের শিশু-কিশোররা অংশ নেয়।
উৎসবে স্থানীয়রা ছাড়াও অন্যান্য উপজেলা থেকে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ নেয়। তাদের নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে একত্রে চর্চা করতে পেরে তারাও ভীষণ আনন্দিত।

এছাড়া স্থানীয় ফুটবল মাঠের এক প্রান্তে বাঁশের খুঁটির উপর প্রাকৃতিক পরিবেশে কলা গাছের পাতার ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয় আলোচনা সভার মঞ্চ। সেই মঞ্চে বিকেল ৪টায় খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ‘সেং কুটস্নেম’ উপলক্ষে জিডিসর প্রধান সুছিয়াং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন- কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান।

এদিকে তাদের এই উৎসবকে ঘিরে মাঠের চারপাশে ঘিরে ২০টি স্টল নিয়ে বসেছিল মেলা। খাসিদের নিত্য পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, বিভিন্ন জাতের ফলমূল ও জুমচাষের উপকরণসহ বিভিন্ন সামগ্রীর স্টল নিয়ে বসেন উদ্যোক্তারা। বাহারি সাজে সাজানো ছিল প্রতিটি স্টল।

বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি থেকে আসা নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোররা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে এসব স্টলে খাসি সম্প্রদায়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খেলনা, খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও মশলার সামগ্রী দিনভর ক্রয় করেছেন।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ঐহিত্যবাহী খাসি পোশাক পরে মেয়েদের নাচ-গান, দুটি পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার, গুলতি চালানো ও র‌্যাফেল ড্র। প্রতিটি আয়োজনে বিজয়ীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কার। খাসিদের এই বর্ষ সমাপনী, নতুন বছর আগমন উপলক্ষে প্রকৃতির রঙ্গের সাথে মিল রেখে উৎসবের সাজসজ্জা ছিল আসলেই মনোমুগ্ধকর।

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এলিসন সুঙ জানান, এ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে রয়েছে খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রাখতে এ আয়োজন।

আয়োজক ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী (হেডম্যান) জিডিশন প্রধান সুচিয়ং জানান, নববর্ষে খাসি জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা-তাদের বর্ণিল সংস্কৃতির সৌরভ ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়, সেইসাথে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী হবে- এমনটাই প্রত্যাশা।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.