শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪১ অপরাহ্ন

নিজ হাতে লাঙল টানছেন আখাউড়া শাহআলম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমের বোরো ধান আবাদ করতে বীজতলা তৈরি ও ধান আবাদ করে জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করছেন স্থানীয় অনেক কৃষক।

তবে জমি আবাদ করতে কেউ গরু লাঙ্গল আবার কেউ পাওয়ার ট্রিলার, ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ দিয়ে প্রস্তুত করছেন। কিন্তু গরুর বদলে নিজ হাত দিয়ে লাঙ্গল টেনে টেনে জমি প্রস্তুতের দৃশ্য সহসায় চোখে দেখা যায় নি। কিন্তু পৌর শহরের তারাগন এলাকায় শাহজাহান নামে এক কৃষক গরুর বদলে নিজ হাত দিয়ে লাঙল টেনে জমি হালচাষ দিয়ে প্রস্তুত করছেন।

ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে তিনি চলতি মৌসুমের বোরো আবাদ দিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েন। যেখানে প্রতি বিঘা জমি চাষ দিতে ২৫০ টাকা দিতে হতো এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকায়। তাই তিনি স্বেচ্ছায় এ কাজ করেছেন। কৃষক শাহআলম পৌর শহরের তারাগন এলাকার মৃত মালু মিয়ার ছেলে।

শাহআলম বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে দৈনিক ভিত্তিতে অন্যের কৃষি জমিতে কাজ ও বর্গাজমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অর্থ সংকটের কারণে পরিশ্রমী এই যুবক রোরো ধান আবাদ করতে গরুর পরিবর্তে নিজের হাত দিয়ে লাঙ্গল টেনে কৃষি জমিতে হাল চাষ করেন। জানা গেছে, শাহআলম একজন দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালান। পাশাপাশি সামান্য জমি বর্গা চাষ করছেন। এইসব কাজ করেই চলছে তার সংসার। তাই চলতি মৌসুমের বোরো ধান আবাদে নিজের হাত দিয়ে লাঙ্গল টেনে হাল চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন।

কৃষি জমিতে কাজ করার সময় শাহআলম বলেন, বেশিরভাগ সময় অন্যের জমিতে মজুরি হিসেবে তিনি কাজ করছেন। পাশাপাশি সামান্য জমি নিজে বর্গা চাষ করছেন। দৈনিক কাজ করে যে টাকা মজুরি পাওয়া যায় তাতে তার সংসার খরচ হয় না। তাই সামান্য পরিশ্রম হলেও জমি চাষ করতে গরু ছাড়া নিজের হাতেই লাঙ্গল টেনে প্রস্তুত করছেন বলে জানায়। তিনি আরো বলেন এই জায়গা টুকু গরু, ট্রাক্টর এবং পাওয়া ট্রিলার দিয়ে হাল চাষ দেওয়া হলে ১ হাজার টাকা দিতে হতো। দিন দিন সব কিছুর দাম বাড়ছে। তাই টাকা বাঁচাতে নিজেই স্বেচ্ছায় এ কাজটি করেন তিনি।

তারাগন এলাকার মো. আবু কাউছার মিয়া বলেন, শাহআলম খুবই একজন কর্মঠ মানুষ। সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকে। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে থাকে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, বর্তমান এই আধুনিক যুগে জমি আবাদ ও হাল চাষের অনেক পরিবর্তন এসেছে। কৃষকরা এখন আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। তবে নিজ হাতে লাঙ্গল টেনে হাল চাষ করা আসলেই একটি কষ্টের কাজ। সে যদি স্বেচ্ছায় টাকা বাঁচাতে এ কাজ করে থাকে তাহলে কিছুই বলার নেই। তারপরও আমরা বিষয়টা খোঁজ নিবো।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.