সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ১০ বছর হলেই চোখের আলো হারিয়ে ফেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১০ বছর হলেই চোখের আলো হারিয়ে ফেলেন একটি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। শুনতে অবিশ্বাস হলেও এটাই বাস্তবতা। দাদা, বাবার পর এবার পরিবারের ছোট সদস্য নাতিরও চোখের আলোও নিভু নিভু অবস্থা। তাই একই পরিবারের ৩ পুরুষ সদস্যের এমন অবস্থায় দিশেহারা গরিব অসহায় পরিবারটি। চেয়েছেন সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সহায়তাও।হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের রঘু চৌধুরী পাড়া মহল্লার আজগর আলী খাঁ পরিবারের সদস্যদের কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রঘু চৌধুরী পাড়া মহল্লার আজগর আলী খাঁ পরিবারের ৩ পুরুষ সদস্যই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তবে তারা জন্ম থেকে কেউই অন্ধ নন। তাদের দাবি, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের ১০ বছর বয়স হলেই চোখের আলো হারিয়ে ফেলেন। তবে পরিবারের অস্বচ্ছলতা থাকায় ভিক্ষে করা চলা দরিদ্র এই পরিবারটি এখন পর্যন্ত উন্নত কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি।

আজগর আলী খাঁ ছাড়াও তার ছেলে আঙ্গুর খাঁ ও নাতি কামাল খাঁ’র একই অবস্থা। বর্তমানে আজগর আলী খাঁ ও তার ছেলে আঙ্গুর খাঁ একেবারেই চোখে দেখেন না। ১০ বছরের নাতি কামাল খাঁ’র চোখের আলোও নিভু নিভু। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারলে হয়তো দাদা বাবার মতো তারও একই অবস্থা আসন্ন। যদিও চিকিৎসকদের পরামর্শে হাজার পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করছেন ১০ বছরের কামাল খাঁ।

আজগর আলী খাঁ বলেন, আমাদের পরিবারের কেউই জন্ম থেকে কেউই অন্ধ না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখে সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে আমার সমস্যা দেখা দিলেও কিছু কিছু দেখতে পেতাম। বর্তমানে একেবারেই দেখতে পাই না। আমার মতো আমার ছেলে আঙ্গুর খাঁ’র একই অবস্থা। সবশেষ আমার ১০ বছরের নাতিরও চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।

আঙ্গুর খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, আমার ও আমার বাবার জীবন তো প্রায় শেষের পথে। তবে আমার ছেলেরতো সবেমাত্র শুরু। আমরা অসহায় পরিবার, ভিক্ষে করে চলতে হয় আমাদের। তবুও কিছু টাকা খরচ করে আমার ছেলেকে চট্রগ্রামের একটি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে চোখ দেখিয়ে আসছি। ডাক্তাররা বলেছেন, তার অপারেশন লাগবে। আর এ জন্য প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা। আমরা এমনিতেই দিনে আনি দিনে খাই। আমাদের পক্ষে এতটাকা জোগার করা সম্ভব না। তাই তিনি প্রশাসনসহ সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন।

আজগর আলী খাঁ’র প্রতিবেশীরা বলছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে হয়তো তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া কামাল খাঁর চোখের সমস্যা দূর হতে পারে। তাই তারা সকলে মানবিক এ কাজে সহায়তা করার আহবান জানান। বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, পরিবারটি কথা আমার জানা ছিল না। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাদেরকে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতাও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরকে দেয়া হবে।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। ওই পরিবারের সদস্যদের উপজেলা প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হবে। এছাড়াও সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও তাদেরকে সহায়তা করার আহবান জানান তিনি।

 

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.