সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

খবরের শিরোনাম:

প্রবাসে সামাজিক সংগঠনের সমস্যা ও সমাধানের উপায়

মোহাম্মদ,এ, আজিজঃ-

সমাজ বিবর্তনের পর থেকেই মানুষের মাঝে সমাজসেবার উদ্দেশ্যে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার অনুভূতি জাগে । আদিকালে মানুষ ছিল ধর্মে, বর্ণে, কৌমে, গোত্রে, গোষ্ঠীতে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন । তাদের মাঝে হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি, পারস্পরিক সংর্ঘষ ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার । বল বানদের কাছে নিরীহরা ছিল জিম্মী । ধর্মীয় পুরহিত ও সরদারতন্ত্রই ছিল সমাজের নিয়ন্ত্রক । সেকালেও প্রত্যেক সমাজে দুঃস্হ, নিরন্ন অসহায় মানুষের প্রতি কিছু মানুষের দরদ ও সহানুভূতি ছিল । সমাজে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখা এবং পরস্পরের মাঝে সম্প্রীতি ভ্রার্তৃত্ব ও সৌহার্দ্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে মানবকল্যাণে জনদরদী মনীষীরা এগিয়ে আসেন । তারা স্ব-স্ব ধর্ম, বর্ণ, কৌম, গোত্র ও গোষ্ঠীভূক্ত লোকদের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলে ঝগড়া বিবাদ, যুদ্ধবিগ্রহ, অভাব অনটনে, প্রার্কৃতিক বিপর্য্যয়ে বির্পয্যস্হ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবাদানের রেওয়াজ শুরু করেন । তারই ধারাবাহিকতায় দেশপ্রেমীক জনদরদী সমাজ সচেতন নাগরিকগণ দেশে দেশে গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন । এমন কি পুঁজিবাদী উন্নয়নশীল দেশে কর্মরত প্রবাসীরা নিজেদের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে পরস্পরের মাঝে ভ্রার্তৃত্ব, সম্প্রীতি গড়ে তোলে নানাবিধ সমস্যা সমাধান ও সাহায্য সহযোগীতার মানষে এবং স্বদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নামে গড়ে তোলেছেন কমিউনিটি ও সামাজিক সংগঠন । প্রবাসীরা বিদেশ ভৈভবে বর্ণবাদী সমস্যা ও নানাবিদ দূর্ভেদ্য বাধা ডিঙ্গিয়ে অনেক পথ অতিক্রম করেছেন । তারা অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসে ও স্বদেশে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান, বিভিন্ন দাবীদাওয়া আদায় সহ আর্ত-মানবতার সেবায় এবং স্বদেশে শিল্পান্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন । তাদের দরদী মনের পরিচয় মিলে গরীব অসহায় মানুষের প্রতি দরদ-কৃপা-করুনা, দান-দক্ষিনা করে মানব সেবায় আত্মনিয়োগে ও স্বদেশ উন্নয়নে । আর্ত-মানবতার সেবা ও স্বদেশ উন্নয়নে আমাদের অগ্রজদের অনেক শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে । অনেকেই নিজেদের মূল্যবান সময়, ধনসম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করেছেন । সকলেরই জানা আছে যে আভিধানিকভাবে মানব সেবার অর্থ হলো সমাজে অসহায় মানবজাতির যত্ন বা শুশ্রুষা করা । মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ট হওয়া নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকে পর্য্যন্ত সেবা-যত্ন বা শুশ্রুষা করার প্রয়োজন হয় । তেমনি ভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়তে হলে সোসাইটি বা সমাজকেও সেবা-যত্ন করতে হয় । এমনকি খেত-খামার, ব্যাবসা-বানিজ্যসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানেরও সেবার প্রয়োজন হয় । সেবা-যত্ন ছাড়া আপন সন্তানদেরকে যেমন মানুষ করা যায় না । তেমনি প্রয়োজনীয় শ্রম, সেবা-যত্ন ছাড়া ক্ষেত খামার থেকে ভাল ফসলও তোলা যায় না । ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপায়ীত করা সম্ভব হয় না । সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পুঁজি হিসাবে জনসমর্থন অর্জন করতেও জনসেবার প্রয়োজন হয় । শুধূ তাই নয় সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ করে পরকালে স্বর্গবাসী হওয়ার আশায় ধর্ম বিশ্বাসীগণ নিবিরচিত্তে সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা বা সেবায় মত্ব থাকেন । মূলতঃ মানুষ হচ্ছে ভোগবাদী । তাদের লোভ-লালসা, লিপ্সা, ভোগ-উপভোগ, আশা-আকাঙ্খার কোন সীমা বা শেষ নেই । ছল-চাতুরী, কৌশল ও ধূর্ততা তাদের অশেষ । তাই পাপের শাস্তি ও নিন্দার ভয় দেখিয়ে আসমানী কিতাব সমূহের মাধ্যমে ভালমন্দ চিহ্নিত করে মানুষকে আদেশ-নির্দেশ ও উপদেশ দেওয়া হয়েছে ।

মোহাম্মদ এ, আজিজ

সমাজসেবক ও ফ্রি ল্যান্স কালামিষ্ট লন্জন থেকে ।

 

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.