সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০১:১৯ অপরাহ্ন

বর্ষায় আজমিরীগঞ্জ হাওরবাসীর সঙ্গী কাঠের দাঁড়-বৈঠা

আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বর্ষাকাল নদীতে পানি বাড়লে রাস্তা প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে হাওরাঞ্চলের অনেক গ্রামের। সে সময়ে যোগাযোগের এক মাত্র মাধ্যম ছোট বড় নৌকা। এতে প্রয়োজন হয় বৈঠা এবং দাঁড়ের।

তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কাঠের তৈরী বৈঠা এবং দাঁড়ের চাহিদা বেড়েছে। এসব বিক্রি করে কারিগরেরা ভালো মোনাফা পাচ্ছেন।

জানাযায়, প্রতি ৭ জন কারিগর মিলে দিনে বিভিন্ন সাইজের ৮০ থেকে ৯০ টি বৈঠা তৈরী করতে পারেন। ছোট বড় আকার ভেদে দুই’শ থেকে আট’শ টাকায় এগুলো বিক্রি হয়। পানি বড়ার সাথে সাথেই তাড়ের ব্যস্ততাও বেড়েছে।তাঁরা আজমিরীগঞ্জ বাজার, কাকাইলছেও চৌধুরী বাজার ও কিশোরগঞ্জের মিটামইন বাজার থেকে কাঠের বাকলা ক্রয় করে এনে নিজেরাই এগুলো তৈরী করেন।উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের সৌলরী গ্রামে বেশীরভাগ বাড়িতে প্রতিযোগিতা করে বৈঠা তৈরীর কাজ চলছে। এখানের তৈরী বৈঠা দেশের বিভিন্ন স্থানের মাঝিদের চাহিদা পূরন করছে।সৌলরী গ্রামের আলকেছ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কযেকজন লোক ছোট করাত দিয়ে কাঠ কেটে বৈঠা তৈরীর জন্য সাইজ করছেন। হাতুড়ি ও বাটালের শব্দ কানে লাগে বাড়ির আঙ্গিনায় যাওয়ার পরই। নিপুন হাতে তাঁরা বৈঠা ও দাঁড় তৈরী করছিলেন।

আলকেছ মিয়া  জানান, ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি বাপ-দাদারা এ ব্যবসা করছেন। আমাদের বর্তমান প্রজন্মও আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে।

তার সাথে আলাপকালে আরো জানাযায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেপারীরা এ গ্রামে এসে দাঁড় ও বৈঠা কিনে নিয়ে যান। সব খরচ শেষে যা মোনাফা মিলে তা দিয়েই কারিগরদের সংসার চলে। আলকেছ মিয়া প্রতি বছর সাত থেকে আট হাহার বৈঠা তৈরী করে থাকেন।

কারিগর সাকিম আলী ও সেবুল মিয়া জানান, তাঁরা বৈঠা এবং দাঁড়ের ফিনিশিং কাজে ২০ টি বৈঠার জন্য সাড়ে ৩শ টাকা মজুরী নেন। “বর্তমান সময়ে দুই মাস বৈঠা ও দাঁড়ের চাহিদা বেশী তাই দম ফালানোর ফুরসত নাই” কথাটিও যোগ করেন।

ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, সৌলরী গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ছাড়া সবাই বৈঠা তৈরীর পেশায় নিয়োজিত।বৈঠা তৈরীর আয় দিয়ে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তাদের তৈরী বৈঠা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝিদের চাহিদা পূরন করছেন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.