সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

খবরের শিরোনাম:

বসন্ত মানেই নতুন সাজে প্রকৃতির মুখরিত হওয়ার ফুল ফোটার দিন

মঈনুল হাসান রতনঃ

বসন্ত মানেই নতুন সাজে প্রকৃতির মুখরিত হওয়ার দিন, ফুল ফোটার দিন। শীতের বিবর্ণতা কাটিয়ে নতুন পাতায় ঋদ্ধ হয়ে উঠবে রুক্ষ প্রকৃতি। ফাগুনের ঝিরঝিরে বাতাস আর কোকিলের মিষ্টি কুহুতানে মাতাল হবে ধরণি। যৌবনে আসবে উদ্দামতা। আনন্দ আর উচ্ছ্বাসমুখরতায় ভরে উঠবে মন-প্রাণ। ‘আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা/কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে’। নেশা-জাগানিয়া এই সময়ে এসেছে ভালোবাসা দিবসও। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের কারণে গত দুই বছর ধরে একই দিনে পালিত হচ্ছে পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। একই দিনে ভালোবাসা দিবস হওয়ার কারনে পোশাক, খাওয়া-দাওয়া এবং উৎসব আয়োজনে চোখে পড়ছে ভিন্নতা।বসন্তে সবাই কম-বেশি হলুদ, হলদেটে, বাসন্তী বা গেরুয়া পোশাক পরে। তবে এবারের পোশাকে ভালোবাসার রঙ লালের প্রাধান্য বেশি।

‘ভালোবাসা’- মাত্র চার অক্ষরের এই শব্দের গভীরতা অনেক- ‘ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়/যুদ্ধ আসে, ভালোবেসে/মায়ের ছেলেরা চলে যায়’। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে স্মরণে রেখে ভালোবাসা দিবস প্রবর্তিত হলেও দিবসটি এখন তরুণ-তরুণীর ভালোবাসার প্রস্তাব জানাবার দিনে পরিণত হয়েছে। রোমান বিশ্বাস মতে, আজ প্রেমের দেবতা কিউপিড ‘প্রেমবাণ’ বা শর বাগিয়ে ঘুরে ফিরবে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। অনুরাগতাড়িত প্রেমিক-হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের উৎসবমুখরতা শহুরে গণ্ডি ছাড়িয়েছে আরও আগেই। তার ব্যাপ্তি মফস্বল ছাড়িয়ে গ্রামের কিশোরীকেও করেছে ব্যাকুল। অনলাইন, ই-মেইল আর ফেসবুক চ্যাটিংও হয়ে উঠবে প্রেমকথার কিশলয়। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুটবে ফুল সৌন্দর্যবিভায়।ভালোবাসা দিবসের গল্পটা অনেক পুরানো। আছে নানা কাহিনী। তবে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজকের গল্পটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। গল্পটা ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দের।

তখন রোমান সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। একের পর এক রাষ্ট্র জয় করে চলেছেন তারা। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে পরাজিত করতে সেনাবাহিনীকে আরও বড় করার কথা ভাবলেন তারা।ওই সময়ে তরুণরা যুদ্ধের দামামার প্রতি অনাগ্রহী। ক্লডিয়াস ভাবলেন, সঙ্গী না থাকলেই যুদ্ধমুখী হবে তারুণ্য। তাই বিয়েকে নিষিদ্ধ করলেন তিনি।

তারুণ্যকে নিয়মের বেড়াজালে বন্দি করার কাজটিও তো মুশকিলের। সম্রাটের চোখ ফাঁকি দিয়ে তরুণদের পাশে দাঁড়ালেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন। গোপনে তিনি বিয়ে দিচ্ছিলেন তরুণ-তরুণীদের। কিন্তু সম্রাটের চোখকে বেশি দিন ফাঁকি দিতে পারলেন না। ধরা পড়লেন ভ্যালেন্টাইন। শুরু হলো কারাজীবন। মুক্তির পথ জানা না থাকলেও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে জেলখানায় যেতেন তরুণরা। এমনকি কারাগারের জেলারের অন্ধ মেয়েটাও দেখতে যেতেন তাকে।চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির অন্ধত্ব দূর করলেন। তাদের মধ্যে শুরু হলো ভালোবাসা। ধর্মযাজক হয়েও রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রেমে মজেন সাধু ভ্যালেন্টাইন। এমনকি আইন ভেঙে করলেন বিয়েও।খবরটা গোপন থাকেনি। পৌঁছে যায় সম্রাটের কানে। মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন ভ্যালেন্টাইনের। সে তারিখটি ছিল ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফাঁ সির মঞ্চে যাওয়ার আগে তার প্রেয়সীকে চিঠি লেখেন তিনি। চিঠির শেষ বাক্যটা ছিল, ‘তোমার ভ্যালেন্টাইনের কাছ থেকে ভালোবাসা।’

সেই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিন। যদিও দুই শতাব্দী নীরবে-নিভৃতে পালন করতে হয়েছে দিনটি। অবশেষে ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে রোমের রাজা পোপ জেলুসিয়াস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে ঘোষণা করেন।সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত জুনো উৎসব। রোমান পুরাণের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনো। দিনটিতে অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত।

৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে, তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে গাঁথা হয় সূত্রে। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোটা ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।করোনাভাইরাস মহামারিকালে অবশ্য এসব আয়োজনের ভাটা নেমেছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। তবুও তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে হয়তো সশরীরে দেখা না হলেও ভালোবাসার বার্তা ঠিক পৌঁছে যাবে আপন ঠিকানায়। অন্যদকিে আজকরে এ ভালোবাসা শুধুই প্রমেকি আর প্রমেকিার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রয়ি সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দয়ো-নয়ো

 

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.