শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী। তিনি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, পপ ও আধুনিক সংগীতের জন্য বিখ্যাত। তবে বাংলাদেশের বাইরে গজল শিল্পী হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে তার সুনাম আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই তিনি চলচ্চিত্রের গায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি আর কেউ নন বলছি বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার কথা।

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার জন্মদিন আজ। জীবনের ৬৮টি বসন্ত পেরিয়ে আজ ৬৯ বছরে পা দিলেন তিনি। বিশেষ দিনটিতে পরিবারের সদস্যদের ও প্রিয়জন সেই সঙ্গে ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন এ সংগীত তারকা।

১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। তার মামা সুবীর সেন ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী।

যখন রুনা লায়লার বয়স আড়াই বছর তখন তার বাবা রাজশাহী থেকে বদলি হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে যান। সেই সুবাধে তার শৈশব কেটেছে পাকিস্তানের লাহোরে।

১৯৬৪ সালে বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলীর অনুমতি নিয়ে সাড়ে ১১ বছর বয়সে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন রুনা লায়লা। ‘গুড়িয়াসি মুন্নী মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’ গানটি কণ্ঠে তোলার জন্য একটানা দুই মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৭৪ সালের শুরুতে প্রয়াত সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ সিনেমায় গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিনেমায় প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। গানের কথা ছিল ‘ও জীবন সাথী তুমি আমার’। এ গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। এরপর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অসংখ্য সিনেমায় তিনি প্লেব্যাক করেছেন।

রুনা লায়লা ভারত, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে ৩ দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও নাম লিখিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় এবং পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের অনেক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। রুনা লায়লা বাংলা, উর্দু, পাঞ্জাবি, হিন্দি, সিন্ধি, গুজরাটি, বেলুচি, পশতু, ফার্সি, আরবি, মালয়, নেপালি, জাপানি, স্প্যানিশ, ফরাসি, ইতালীয় ও ইংরেজি ভাষাসহ মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান করেছেন। তার ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গানটি পাকিস্তানে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

সম্প্রতি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে এসে স্বাধীনতা পদক বিজয়ী রুনা লায়লা তার জীবনের নানা জানা-অজানা গল্পের কথা তুলে ধরেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সংগীতশিল্পী নয়, তার হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। টানা চার বছর করাচির বুলবুল ললিতকলা একাডেমির ভরতনাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শেখেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত গানের মাঝেই থেকে যান।

রুনা লায়লা চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শিল্পী’ নামের একটি সিনেমায় স্বামী আলমগীরের বিপরীতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শিল্পী সিনেমাটি ইংরেজি চলচ্চিত্র ‘The Bodyguard’-এর ছায়া অবলম্বনে চিত্রিত হয়েছিল।

বিষয়:

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.