শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

বানিয়াচংয়ে ৮ মাসে মোটর সাইকেল কেড়ে নিয়েছে ৬ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হবিগঞ্জে বানিয়াচংয়ে ৮ মাসে মোটরসাইকেল কেড়ে নিয়েছে ৬ তরুণের প্রাণ। ২০২১ সালের মে মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই ৮ মাসে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন তারা সকলেই বয়সে ছিলেন তরুণ।
নিহতদের মধ্যে কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান, কেউবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কেউ ছিলেন মেধাবী আগামীর উজ্জল সম্ভাবনা।
যারা মারা গেছেন সকলেই মোটরসাইকেল চালিয়ে বানিয়াচং উপজেলার বাইরে বেড়াতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত তরুনদের ছবি মহুর্তেই সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের জন্য আবেগঘন লেখার পাশাপাশি চলে তীব্র সমালোচনা। সমালোচকরা তরুনদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোকে দায়ী করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের কঠোর সমালোচনা করেন।
গত ২৯ মে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্পটে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরতে যান জমির আহমেদ (২৯) ও তার বন্ধু শাকিল মিয়া (২৪)। পথিমধ্যে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল রোডের নতুনবাজার নামক স্থানে সিএনজি’র সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ওই দুই বন্ধু। জমির মিয়া ছিলেন উপজেলার রঘুচৌধুরী পাড়ার জব্বার মিয়ার পুত্র। তনি মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন ৯ বছর। মৃত্যুর চার মাস পূর্বে বিয়ে করেছিলেন পাশর্^বর্তী গ্রামে। মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী ছিলেন অন্তস্বত্ত¡া।
অপর নিহত শাকিল মিয়া চানপাড়া গ্রামের শাবাজ মিয়ার পুত্র। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
১৭ অক্টোবর মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান উপজেলা সদরের নন্দীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল মিয়ার একমাত্র পুত্র ইফতেখার হোসেন রাজীব (৩৫)। তিনি তার এক বন্ধুকে নিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া ঘুরতে গিয়েছিলেন।
পথিমধ্যে উল্টো দিক থেকে আসা অপর মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাজীব। সাথে থাকা তার বন্ধু বেচে গেলেও গুরুতরভাবে আহত হন।
১৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারান সিয়াম (২১) ও ফাহিম (২১) নামের দুই কলেজছাত্র। অনার্স পড়–য়া অত্যন্ত মেধাবী ওই দুই বন্ধু পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গিয়ে উপজেলা সদরের নন্দীপাড়া গ্রামের আহাদ মিয়ার পুত্র সিয়াম ও পাশর্^বর্তী দাসপাড়া গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মিয়ার পুত্র ফাহিম গুরুতর আহত হয়ে সিয়াম ঘটনাস্থলে ও ফাহিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই মারা যান।
সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর মোঃ সোহান (২২) সিলেট ঘুরতে গিয়ে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ তারিখ মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি উপজেলার শরীফখানী গ্রামের আবুল কালাম মিয়ার পুত্র। এঘটনায় গুরুতর আহত হন সোহানের বন্ধু রাহাদুর রহমান আকাশ (২০)। সে পাশর্^বর্তী গরীব হোসেন মহল্লা গ্রামের আজিজুর রহমানের পুত্র।
নিহত তরুনদের মৃত্যুতে উদ্ধেগ প্রকাশ করে এলাকার মানুষজন অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বানিয়াচং উদীচী’র আহবায়ক ইমদাদুল হোসেন খান বলেন, অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের হাতে যেন মোটরসাইকেলের চাবি তুলে না দেন।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, এত সংখ্যক সম্ভাব্য তরুনদের মৃত্যু দুঃখজনক।অভিভাবকরা সন্তানের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি তুলে দিতে যেন দ্বিতীয়বার ভাবেন। আর যারা মোটরসাইকেল চালক তারা যেন ট্রাফিক আইন মেনে চলেন। অপ্রয়োজনীয় ওভারটেক ও বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল না চালাতে অনুরুধ করছি।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.