শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

বালাগঞ্জে সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যাহতের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বুরো চাষাবাদ শুরুর আগেই বালাগঞ্জ উপজেলার হাওর-বিলে সেচ সংকট দেখা দেয়ায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ইজারাদাররা নিজেদের প্রয়োজনে হাওরের পানি সেচ দেয়ার কারণে অসময়ে শুকিয়ে গেছে তেলশা নদী ও দীঘির খাড়ার নামক খাল। সেচ সংকটে ছোট চাতল, বড় হাওর, বেরাঘাঘটিয়া হাওর ও খাড়ারপাড় খালের নিকটে অধিকাংশ কৃষি জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের চাম্পারকান্দি, নিজগহরপুর, দত্তপুর, কালিমানজী গ্রামসহ প্রায় ১০-১২টি গ্রামের কৃষকরা বেরাঘাঘটিয়া হাওরের জমিতে বোরো আবাদ করে আসছেন। এই হাওরের অধিকাংশ জমি চাষাবাদে দিঘীর খাড়ার খাল ও তেলশা নদী থেকে সেচ দেয়া হয়। কিন্তু এই খাল-নদী আগাম শুকিয়ে যাওয়ায় এবার অনেক জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা কৃষকদের।

সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বেরাঘাঘটিয়া হাওর সংলগ্ন জান মোহাম্মদ খাল ও ছোট চাতল- খাড়ার খালে বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকানো হতো। ফলে শুষ্ক মৌসুমে তেলশা নদী ও দীঘির খাড়ার খালে পর্যাপ্ত পানি থাকতো এবং সেচের চাহিদা মেটানো যেতো।

এ বছর এই খালগুলোতে ছোট করে বাঁধ নির্মাণ করায় হাওরের পানির নেমে গিয়ে পানির কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছে।

এছাড়া, ছোট চাতল-খাড়ার খালের বাঁধের নিচে ৫ইঞ্চি পাইপ বসিয়ে বিল ইজারাদাররা পানি সেচ দিচ্ছেন। এতে করে হাওরের উজান দিকের নদী-খাল শুকিয়ে গেছে। এভাবে পানি সেচ দেয়া অব্যাহত থাকলে বেরাঘাঘটিয়া হাওরের আশপাশের জমিতে বুরো চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। বোরো ফসল উৎপাদনে বেরাঘাঘটিয়া হাওরের পানি সেচ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভুক্তভুগী কৃষকরা জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, কৃষকদের বর্ণনা মতে সরজমিন পরিদর্শনকালে ইজারাদাররা নিজেদের প্রয়োজনে হাওরের পানি সেচ দেয়ার কারণে বোরো জমিতে সেচ সংকটের সত্যতা মিলেছে। এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, পানি সেচের বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি, সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.