ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক Logo হবিগঞ্জে টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বানিয়াচংয়ে ২২০০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ব্রীজ থেকে পানিতে পরে নারীর মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা Logo হবিগঞ্জে দুই বোনের বিষপানে এক বোনের মৃত্যু Logo তেলিয়াপাড়া দিবসে হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন’ Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে বাড়ছে মোবাইল চুরির ঘটনা Logo ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক Logo শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির ৫০তম জন্মদিন উদযাপন, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল

বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে বর্ষায় উত্তাল খরস্রোতা সেই করাঙ্গী নদী এখন শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশ শুকিয়ে যাওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে করাঙ্গী। এতে কৃষিজমিসহ দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা নিবারণে তিন ইউনিয়নের জনসাধারণ পানি সংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

একসময় নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য করাঙ্গী নদীর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন এলাকার কৃষকরা।

পরিবেশবিদদের অভিযোগ, খরস্রোতা এ নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনতে নেই সরকারি কোনো উদ্যোগ; বরং কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে এ নদীকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলছে।

নদীর উজানে চুনারুঘাট অংশে অপরিকল্পিত বাঁধ তৈরি করে ভাটি জনপদে পানির সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে নদীর দুই তীরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পানি ব্যবহার ও গৃহপালিত পশু পালনে বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

হিমারগাঁও গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাদেশ্বর, বাহুবল সদর ও সাতকাপন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক আবহমানকাল থেকে করাঙ্গী নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করতেন। তারা হাঁসের খামার ও গরু-ছাগল পালনে এ নদীর পানিতেই নির্ভরশীল ছিলেন।

ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ফসলি জমিগুলোয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া করাঙ্গী নদীর দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছও বিলীন হয়ে গেছে।

সমাজকর্মী কাজী আলফু মিয়া বলেন, জীববৈচিত্র্য-সমৃদ্ধ করাঙ্গী নদীর অতীত কেবলই স্মৃতি। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি নদীর আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খননের দাবি জানান।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন চন্দ্র দে আমার দেশকে বলেন, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
৩৬ বার পড়া হয়েছে

বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক

আপডেট সময় ০১:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে বর্ষায় উত্তাল খরস্রোতা সেই করাঙ্গী নদী এখন শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশ শুকিয়ে যাওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে করাঙ্গী। এতে কৃষিজমিসহ দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা নিবারণে তিন ইউনিয়নের জনসাধারণ পানি সংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

একসময় নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য করাঙ্গী নদীর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন এলাকার কৃষকরা।

পরিবেশবিদদের অভিযোগ, খরস্রোতা এ নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনতে নেই সরকারি কোনো উদ্যোগ; বরং কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে এ নদীকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলছে।

নদীর উজানে চুনারুঘাট অংশে অপরিকল্পিত বাঁধ তৈরি করে ভাটি জনপদে পানির সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে নদীর দুই তীরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পানি ব্যবহার ও গৃহপালিত পশু পালনে বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

হিমারগাঁও গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাদেশ্বর, বাহুবল সদর ও সাতকাপন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক আবহমানকাল থেকে করাঙ্গী নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করতেন। তারা হাঁসের খামার ও গরু-ছাগল পালনে এ নদীর পানিতেই নির্ভরশীল ছিলেন।

ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ফসলি জমিগুলোয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া করাঙ্গী নদীর দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছও বিলীন হয়ে গেছে।

সমাজকর্মী কাজী আলফু মিয়া বলেন, জীববৈচিত্র্য-সমৃদ্ধ করাঙ্গী নদীর অতীত কেবলই স্মৃতি। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি নদীর আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খননের দাবি জানান।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন চন্দ্র দে আমার দেশকে বলেন, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।