সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:১২ অপরাহ্ন

বাহুবলে মেশিনের ভোট নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা

ইশতিয়াক শোভনঃ  জীবনে প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এ ভোটপ্রদান নিয়ে শঙ্কিত/বিব্রত বাহুবল উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের ভোটার। শুধু ভোটার নয়, টেকনিক্যাল কোনো ধারণা না থাকায় অনেক প্রার্থী, এজেন্টসহ খোদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দে। এ অবস্থায় ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাপক কোনো প্রচার-প্রচারণা বা অধিকতর প্রশিক্ষণের আয়োজনও নেই নির্বাচন কমিশনের। ফলে ভোটপ্রদানে ঘটতে পারে সময় ক্ষেপন, কমে যেতে পারে কাস্টিং ভোটের হার; এমন আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
গ্রাম-গঞ্জের অনেক সাধারণ ভোটারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ‘ইভিএম’ সম্পর্কে তাদের নূন্যতম কোনো ধারণাই নেই। এমন অনেক ভোটার আছেন বাস্তবে-তো দূরের কথা, ছবিতেও দেখেননি ‘ইভিএম’ মেশিন। কিভাবে ভোট দিতে হয়, পছন্দের প্রার্থীর বাক্সে ঠিকমত ভোট পৌছবে কি-না, ভোটের গোপনীয়তা থাকবে কি-না? এসব বিষয় নিয়ে শঙ্কিত বেশিরভাগ ভোটার। কেউ কেউ আবার এমনও বলছেন ‘ভোট আবার চুরি-টুরি হয়ে যায় কি-না?
অনেক প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর বা অল্প শিক্ষিত। যুগ যুগ ধরে তারা ব্যালটেই ভোট দিয়ে অভ্যস্থ। হঠাৎ করে ‘ইভিএম’ পদ্ধতি চালু করায় বিপাকে পড়েছেন তারা। একসাথে একটি ইউনিয়নের সকল কেন্দ্রে ‘ইভিএম’ পদ্ধতি চালু করা সময়োপযোগী হয়নি। প্রতি ইউনিয়নের সদর কেন্দ্রে অথবা প্রতি উপজেলা সদর কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা উচিৎ ছিল। ধীরে ধীরে মানুষকে সচেতন করা যেত। তাছাড়া ‘ইভিএম’ এ ভোটদানের পদ্ধতি সাধারণ মানুষকে জানাতে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রচার-প্রচারণাও নেই নির্বাচন কমিশনের। উচিৎ ছিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গ্রামে-গঞ্জে বিশেষ প্রচার-পাবলিসিটি করা। শুধু কয়েক ঘন্টার ‘মক’ (প্রশিক্ষণ) ভোটের আয়োজন করেই দায় সারছে নির্বাচন কমিশন।
প্রার্থীরা আরও জানান, গ্রামে এখনও অনেক মানুষ আছে যারা বাটন মোবাইল-ই চালাতে জানেন না। সেইসব মানুষ হুট করে ‘ইভিএম’ এ ভোট প্রদান করবেন কিভাবে? বিষয়টি নিয়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়েছেন ভোটাররা। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। ইতিমধ্যেই অনেক মহিলা ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে অনিহা প্রকাশ করছেন। ফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে ভোটের কাস্টিং হার। শুধু তাই নয়, ‘ইভিএম’ সম্পর্কে ধারণা নেই খোদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাদেরও। তাদেরকে সাময়িকভাবে অল্প কিছু প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তবে টেকনিক্যাল কোনো ধারণাই নেই তাদের। প্রার্থীর এজেন্টদের অবস্থাও একই। কাছে থেকেও বুঝতে পারবেন না, কি হচ্ছে ‘ইভিএম’ এ। এ অবস্থায় এজেন্ট থাকা না থাকা সমান ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানতে চাইলে বাহুবল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরউজ্জামান বলেন, ‘ইভিএম-এ ভোটপ্রদান সম্পর্কে ভোটারদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে আগামী ২৯ জানুয়ারি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সবকটি কেন্দ্রে ‘মক ভোট’ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।’
প্রসঙ্গত, বাহুবল উপজেলার ৭ ইউনিয়নে এবার ৪০ চেয়ারম্যান, ১০২ সংরক্ষিত নারী সদস্য ও ৩২৬ সাধারণ সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ৩১ জানুয়ারি এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্নানঘাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, হারুন অর রশীদ, মোঃ তাজুল ইসলাম, মোঃ মুদ্দত আলী এডভোকেট, মনোরঞ্জন রায় ও মোঃ তোফাজ্জল হক। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫৯ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৫১৪ ও মহিলা ৯ হাজার ১৪৫ ভোট।
পুটিজুরী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, মোঃ মুদ্দত আলী, খোরশেদ আলম, শাহ ফয়জুল কবির ও মঈন উদ্দিন আরিফ চেয়ারম্যান। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৫১ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৮৬৫ ও মহিলা ৮ হাজার ৯৮৬ ভোট।
সাতকাপন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, নারায়ন চন্দ্র পাল, শাহ আবদাল মিয়া, মোঃ আব্দুর রেজ্জাক, ফজলুল হক, আজিজুর রহমান ও মোঃ ছায়েদ আলী। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ১২৯ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৯৩ ও মহিলা ১১ হাজার ৩৬ ভোট।
বাহুবল সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, মোঃ রিফাত ইসলাম মুরাদ, নূর উদ্দিন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আজমল হোসেন চৌধুরী ও মোঃ কাজল তালুকদার। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৪১২ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ১০৩ ও মহিলা ১০ হাজার ৩০৯ ভোট।
লামাতাসী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, সাইফুর রহমান জুয়েল, উস্তার মিয়া তালুকদার, হাবিবুর রহমান চৌধুরী টেনু, আব্দুল কাইয়ূম, এস.এম ফারুক ও শাহীন মিয়া। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৩৩ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৫৯৭ ও মহিলা ৮ হাজার ২৩৬ ভোট।
মিরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, মোঃ সাইফুদ্দিন, ডা. মোঃ রমিজ আলী, মোঃ নূরুল হক আসকির, আব্দুল আউয়াল, মোঃ শামিম, মীর একেএম জমিলুননব্বী, মোঃ হেলাল মিয়া, মোঃ আব্দুল মুতালিব রুবেল ও মোঃ শামীম মিয়া। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ১০৬জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ২০৩ ও মহিলা ৮ হাজার ৯০৩ ভোট।
ভাদেশ্বর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, কামরুজ্জামান, মোঃ শাহাব উদ্দিন, মোঃ আব্দুর রউফ বাহার, মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোঃ মাখন মিয়া ও মোঃ জুনায়েদ মিয়া। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭৮০ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৩৩৭ ও মহিলা ১১ হাজার ৪৪৩ ভোট।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.