সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

বিজয়ের ৫১ বছর পদার্পনে ৫১ কিলোমিটার হাটলেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিজয়ের ৫১ বছরের পদার্পন উদযাপনে এই পদযাত্রিক দল এবার হাটবে ৫১ কিলোমিটার। বুদ্ধিজীবী দিবসকে সামনে রেখে রবিবার (১২ ডিসেম্বর) ভোর ৬ টায় সিলেট নগরের রিকাবীবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে চৌহাট্টাস্থ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও জিয়ারত করেন।

এরপর নগরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে উপকন্ঠে অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকা লালমাটিয়া বধ্যভূমির খোলা প্রান্তরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তারা লালমাটিয়া দেখা পান বধ্যভূমির অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী জামালউদ্দিন এর, যিনি বিগত ৩২ বছর ধরে এই বিশাল বধ্যভূমির জায়গা নিজ উদ্যোগে পরিচর্যা করা আসছেন।

পদযাত্রিক দল তাকে সেখানেই পরিচর্যারত অবস্থায় পান। ২০১৯ সালে এই আয়োজনের মাধ্যমেই তাকে খুজে পান এই পদযাত্রিক দল

শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে ফিরতি পথে হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর হয়ে ঢাকা সিলেট হাইওয়ে রোড ধরে গোয়ালাবাজার হয়ে বুরুঙ্গা বধ্যভূমিতে ৫১ কিলোমিটার পদযাত্রার শেষ হয়।

১৯৭১ সালের ২৬ শে মে বালাগঞ্জ উপজেলার বৃহত্তর গনহত্যা এই বুরুঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত হয়। বর্তমানে সেখানকার স্মৃতিসৌধ সংস্কারের কাজ চলছে । সেখানে পদযাত্রিক দলের সঙ্গে সেই নৃশংস গনহত্যায় ভাগ্যক্রমে বেচে যাওয়া ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও কিছুসময় নিরবতা পালন করেন। শ্রীনিবাস চক্রবর্তী, দেবেন্দ্র দেব সঙ্গে বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ দেব সহ স্থানীয় এলাকাবাসী ছিলেন।

স্কুল পড়ুয়া শিশু থেকে ষাটোর্ধ সিনিয়র সিটিজেন সম্বলিত বরাবরের মতো এই দলটিতে এবারও ৬ জন পদযাত্রিক এর সঙ্গে তিন জন সাইক্লিস্টসও ছিলেন এই পদযাত্রায়।

এই পদযাত্রার সমন্বয়ক ও পদযাত্রিক দলের প্রধান কাজি সাহি জানান, ১৯৭১ বাংলাদেশে গনহত্যার প্রমাণ ও স্মৃতিচিহ্ন এই বধ্যভূমিগুলো, বিজয়ের ৫১ বছরে পা দিচ্ছি অথচ এগুলোর অনেকগুলোই এখন সবচেয়ে অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। এই লালমাটিয়ার বধ্যভূমির কথাই ধরুন। শহরের উপকন্ঠে বৃহত্তর বধ্যভূমি, এখনও সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আশা করছি যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে উদ্যোগ নিবেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চমাসে ১৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে টুঙ্গিপাড়া থেকে ধানমন্ডি ৩২ অভিমূখে ১০০ কিলোমিটার পদযাত্রা করেছেন কাজি সাহি। বঙ্গবন্ধুর জীবনীর প্রতি আলোকপাত করে একদিন ব্যাপী এই যাত্রায় টুঙ্গিপাড়াস্থ বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে হেটে হেটে ৯৯ কিলোমিটার ঢাকা অভিমুখে আসেন। ৯৯ কিলোমিটার এর পর বাসে করে ঢাকা এসে ধানমন্ডি ৩২ এর এক কিলোমিটার আগে থেকে হাটা শুরু করে ১০০ কিলোমিটার পূর্ন করে ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে শেষ করেন এ পদযাত্রা।

এবারের পদযাত্রিক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ডাঃ বাবর আলী, যিনি ২০১৯ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা পায়ে হেটে ঘুরেছেন।বাবর আলি জানান, ‘এই আয়োজনের সঙ্গী হতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। বধ্যভূমি নিয়ে সচেতনতার এই উদ্যোটা একদমই নতুন, প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। বধ্যভূমি নিয়ে আমাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সচেস্ট হয়ে উঠতে পারবো।

এবারের পদযাত্রিক দলে ছিলেন কাজি সাহি, বাবর আলি, সরফরাজ আহমেদ তানভীর, তমিস্রা তিথি, সাইদা আক্তার রিনা, আফসানা হালিমা। সাইক্লিস্টস হিসেবে ছিলেন সৈয়দ তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ, মাহাদি হাসান, নুরুল ইসলাম।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.