বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

খবরের শিরোনাম:
থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ছয় দিনের সফরে থাইল্যান্ডের পথে প্রধানমন্ত্রী নবীগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল শায়েস্তাগঞ্জে রাজাকারের নামে ২টি রাস্তা নামকরণ বাতিলের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ শায়েস্তাগঞ্জে সার-বীজ বিতরণ করলেন এমপি আবু জাহির রাজনগর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর শায়েস্তাগঞ্জ ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক ভিডিওকলে মাধবপুরের রেহানাকে বাঁচানোর আকুতি, ‘আমি আর সহ্য করতে পারতেছি না’ মৌলভীবাজারে চা-শ্রমিকের ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মাধবপুরে ১ বছর ধরে শিকলবন্দি সাফিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাঁশের খুঁটির শিকলটি নিত্যসঙ্গী সাফিয়ার। আপনজনের মায়া-মমতা মিথ্যে হয়ে গেছে ভাগ্যবিড়ম্বিত এই তরুণীর। যেন দুর্বিষহ এক যন্ত্রণাময় জীবন। ১৯ বছর বয়সে সাফিয়া হঠাৎই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এরপর থেকে কখনো হাসে, আবার কখনো কাঁদে। আবার হঠাৎ কারও ওপর ভীষণ রেগে গিয়ে মারধর শুরু করে। কখনো বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। আবার কখনো নিজের শরীর নিজেই খামচে রক্তাক্ত করে। এমন অস্বাভাবিক আচরণ থেকে রক্ষা পেতে পরিবারের লোকজন ১ বছর ধরে সাফিয়াকে এক পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে। প্রতিবেশী কেউ সামনে গেলে পায়ের শিকল খুলে দেয়ার আকুতি জানিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে সাফিয়া। মানসিক ভারসাম্যহীন সাফিয়া আক্তার মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের বানেশ্বর গ্রামের আনছর আলীর মেয়ে। জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারীতে সাফিয়ার বিয়ে হয় চুনারুঘাট উপজেলার চুরতা গ্রামের সাজিদ মিয়ার সাথে। বিয়ের পরে বাবার বাড়িতেই বসবাস তার। বিয়ের একবছর পর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় সাফিয়া। জন্মের কদিন পর মারা যায় তার নাড়িছেঁড়া ধন। এরপর পুত্রসুখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সাফিয়া। স্বামী সাজিদ মিয়া থেকেও যেন নেই। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে মায়ের পক্ষে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি তার।
সাফিয়ার মা খুদেজা খাতুন বানু বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য সব শেষ করে দিছি। অভাবের সংসারে ৩ পুলা (ছেলে) আর দুই মাইয়ারে (মেয়ে) লইয়া কষ্টে আছি। আমার মেয়ে সাফিয়া এখন মানসিক প্রতিবন্ধী, মানুষরে মারধর করে। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। মেয়ে মানুষ এমন অবস্থায় বাইরে যাইতে দেই না। তাই পায়ে একবছর ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখছি। সরকার যদি আমার সাফিয়ার চিকিৎসার জন্য একটু সাহায্য করতো।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই পরিবারটিকে সহায়তা করি। সরকারিভাবে সাহায্যের কোন ব্যবস্থা থাকলে আমি অবশ্যই করে দিব।
মাধবপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী তাপস জানান, আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করলে বরাদ্দ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.