রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০১ অপরাহ্ন

রাজিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পতনের আলামত শুরু হয়ে গেছে জি কে গউছ

ইশতিয়াক শোভনঃ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- আওয়ামী লীগের পতনের আলামত শুরু হয়ে গেছে। নিশিরাতে ভোট ডাকাতি করে যারা ক্ষমতায় বসে আছে তাদেরকে আর বিদেশীরা বাংলাদেশের
ক্ষমতার মসনদে দেখতে চায় না। এখন বাংলাদেশের মানুষকে জেগে উঠছে। শীঘ্রই একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সদর উপজেলার ৬নং রাজিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জি কে গউছ বলেন- বিএনপি একটি সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই আন্দোলন আজ থেকে শুরু হয়নি, যে দিন শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে এই দেশের গণতন্ত্রের পিটে ছুরিকাঘাত করেছিলেন, মানুষের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন, সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাকশালের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিয়েছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে সকল লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৯টি বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। শেখ হাসিনার কবল থেকেও গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার করতে বিএনপি আন্দোলন করছে। ইনশাআল্লাহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই আবারও দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনঃরুদ্ধার করা হবে।
জি কে গউছ বলেন- আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার বিন্দু মাত্র সম্ভাবনা নেই। যার কারণে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করেনি। ওই নির্বাচনে মহামান্য রাষ্টপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ১৫৪ জন বিনাভোটে এমপি হলেন। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখলেন। তখন দেশের মানুষ বলেছিল বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। এই কথাটি মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য ২০১৮ সালে আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিল বিএনপি। এই নির্বাচনে দেশের মানুষ দেখেছে আওয়ামী লীগ কিভাবে ভোট ডাকাতি করেছে। দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে দিনের ভোট রাতেই সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। এটার নাম গণতন্ত্র হতে পারে না। আওয়ামী লীগ বাকশালের আদলে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। আজ মানুষের ভোটাধিকার নেই, বাক-স্বাধীনতা নেই, জানমালের নিরাপত্তা নেই, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নেই, মানবাধিকার নেই। আওয়ামীলীগ দেশটাকে লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করেছে। আওয়ামীলীগের এই দুঃশাসন থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়।
বিএনপি নেতা এডভোকেট মতিউর রহমান সানু’র সভাপতিত্বে ও হাফিজুর রহমান সুজনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট হাজী নুরুল ইসলাম ও হাজী এনামুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক প্রফেসর এনামুল হক, সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক আজিজুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সদস্য মহিবুল ইসলাম শাহীন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম ফজল, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক মোঃ আজম উদ্দিন, এডভোকেট আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল হোসেন বাচ্চু, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম সেলিম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান সিতু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গুলজার খান, নজরুল ইসলাম কাওছার, দেওয়ান মোহাইমিন চৌধুরী ফুয়াদ, এম এ মানিক।
সম্মেলনে গোপন ব্যালটে হাফেজ শেখ উসমান গনি সভাপতি, মোঃ হেলাল মিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোঃ মমিনুল ইসলাম মমিন সাধারণ সম্পাদক, মোঃ সাহাবুদ্দিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এম ডি দুলাল সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.