বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে বর্ণিল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরে বর্ণিল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন বিস্তীর্ণ বিলে ফুটে থাকে লাল, সাদা আর নীল শাপলা। ভরা মৌসুমে প্রাণ ফিরেছে লক্ষ্মীপুরের শাপলা বিলে। শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসে সময় কাটাচ্ছেন বিলের পানিতে শাপলার সঙ্গে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জের পূর্ব চরমনসা গ্রামে প্রায় দুই একর জমিতে জলা কেটে পরিকল্পিতভাবে এ শাপলা বিল গড়ে তোলেন প্রকৃতিপ্রেমী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। কোনো প্রকার বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াই শুধুমাত্র সবুজ প্রকৃতি ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ জমিতে শাপলা বিলটি গড়ে তোলেন।

প্রত্যন্ত পূর্ব চরমনসা গ্রামে ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামে গড়ে তোলা শাপলা বিলটি আপন সৌন্দর্যে নয়নাভিরাম মুগ্ধতা বিলিয়ে যাচ্ছে। রক্তলাল বর্ণের ফুটে থাকা হাজারো শাপলা ফুলে ভরা মনমুগ্ধকর এ বিল দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

তিন বছর ধরে শাপলা বিলটি দেখভালসহ নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক। নির্ধারিত হারে তাদের পারিশ্রমিকসহ বাগান কেন্দ্রিক আনুষাঙ্গিক যাবতীয় ব্যয় বহন করেন উদ্যেক্তা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। দর্শনার্থীদের ঘোরাঘুরির সুবিধার্থে বিলে ছোট্ট ডিঙি নৌকা রাখা হয়েছে। এ নৌকায় বিলের পানিতে ঘুরতে কোনো টাকা দিতে হয় না।

প্রতিদিন সকাল-বিকেল সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষ বাগানটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে ভোর এবং বিকেলে দর্শনার্থী বেশি আসেন। কারণ সকাল ১০টা পর্যন্ত শাপলা বাগানের লাল শাপলা পাপড়ি ছড়িয়ে থাকে নয়নাভিরাম মুগ্ধতায়। আর বিকেলে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে পুরো বিল। ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামে এ শাপলা বিল দেখতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও আসেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

এ শাপলা বিল গড়ে তোলার পেছনে উদ্যেক্তার কোনো অর্থনৈতিক লাভ না থাকলেও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছে এখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বাগানটির পাশে আগে ২-৩টি দোকান থাকলেও শাপলার বিলটি সেজে ওঠার পর অসংখ্যা দোকান গড়ে উঠেছে। এগুলোর বেশিরভাগই ছোট ছোট চা-নাস্তার দোকান। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় কিছু বেকার যুবকের। দর্শনার্থী আসা-যাওয়া থাকায় আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে বলে জানায় স্থানীয় দোকানিরা।

দর্শনার্থীরা এমন উদ্যেগের প্রশংসা করে জানান- দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সবুজ গাছগাছালি ছাড়া দেখার মতো কিছুই নেই। যা বারবার দেখতে একঘেয়েমি চলে আসে। এর মাঝে এই শাপলা বিল অন্যরকম ভালোলাগা সৃষ্টি করেছে। তাই তো কাজের ফাঁকে, ছুটির দিনে কিংবা অবসর সময়ে এ বিল দেখতে ছুটে আসেন তারা। কেউ আসেন বন্ধু-প্রিয়জন নিয়ে, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসে বাবু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, উদ্যোক্তা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন সৌন্দর্যবর্ধনে শাপলা বিলটি তৈরি করে নিঃসন্দেহে পরিবেশের অনেক বড় উপকার করে চলেছেন। এতে এলাকার যেমন পরিচিতি বাড়ছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তনেও এ শাপলা বিল বেশ ভূমিকা রাখবে।

‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’র উদ্যেক্তা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন  বলেন, এখন নানা অজুহাতে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও প্রকৃতি উজাড় হচ্ছে। অথচ প্রকৃতি অক্সিজেন ও সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। সবুজ প্রকৃতি লালন ও এর সমৃদ্ধির চিন্তা থেকেই এমন পরিকল্পনা করেছি।

তিনি আরো বলেন, নিজের দুই একর জমিতে শাপলা চাষের উপযোগী খনন ও সেচ কাজ সম্পন্ন করে দিনাজপুর থেকে রক্তবর্ণের শাপলা বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদ করেছি। শুধু শাপলা বাগান করেই শেষ করিনি। গ্রামের রাস্তার পাশে তিনস্তর বিশিষ্ট গাছ লাগাচ্ছি। এর মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ রয়েছে। একই সঙ্গে পাখ-পাখালির অভয়ারণ্য ও পাখির খাবার আহরণের সুবিধায় ধীরে ধীরে কৃত্রিম অরণ্য গড়ে তুলছি।

এছাড়া গ্রামে শিশুদের ভালো লাগার সহায়ক পরিবেশ সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’র উদ্যেক্তা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.