সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

শায়েস্তাগঞ্জের শতবছরের পুরোনো একমাত্র পশু হাসপাতালটি এখন বিলুপ্তির পথে

মোঃশফিক মিয়া ॥ হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জের শত বছরের পুরোনো একমাত্র পশু হাসপাতালটি এখন বিলুপ্তির পথে। শায়েস্তাগঞ্জ থানার একমাত্র এই পশু চিকিৎসা কেন্দ্রটি দিনে দিনে ধংশ হয়ে যাচ্ছে। ১৯০৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে শায়েস্তাগঞ্জ ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড়চর তালুকহড়াইয়ে ২৫ শতক ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পশু চিকিৎসা কেন্দ্রটি। শত বছর হলেও এই হাসপাতালটি উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি । ১৯৯৮ সালে শায়েস্তাগঞ্জকে পৌর সভায় রূপান্তরিত করা হয়। পৌরসভার উন্নয়ন হলেও এই হাসপাতালের উন্নয়ন হচ্ছে না আজও । শায়েস্তাগঞ্জ থানা, পৌরসভা ও নুরপুর ইউনিয়ন একমাত্র পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এই হাসপাতালটি। হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের প্রায় কয়েকটি শায়েস্তাগঞ্জ, নিজামপুর, নুরপুর, লস্করপুর, শানখলা, উবাহাটা, ইউনিয়নে গরু-ছাগল, মহিষ বিভিন্ন ধরনের পশু রোগাক্রান্ত হলে এই হাসপাতালেই একমাত্র ভরসা। সরজমিন ঘুরে দেখাগেছে হাসপাতালটি করুণ অবস্থা। হাসপাতালের চারদিকে বাউন্ডারী থাকলেও মূল ভবনের চিহ্নই নেই। রয়েছে একটি ভাঙ্গা টিনসেট ঘর। আগের পুরোনো বিল্ডিংটির কোন অস্তিত্বই নেই। টিনসেট ঘরে রয়েছে একটি ভাঙ্গা আলমারী, একটি টেবিল, দুইটি চেয়ার, পর্যাপ্ত ঔষধ নেই এই হাসপাতালে। সূত্রে জানা যায়, লোকবল ও ঘরের অভাবে চিকিৎসা প্রদান করা যাচ্ছে না। দুই জন ডাক্তারসহ মোট ১১ জন লোক এই হাসপাতালে থাকার কথা কিন্তু একজন ছিল তিনি ও বছর খানেক আগে মারা যান। বর্তমানে হবিগঞ্জ থেকে একজন এসে দায়িত্ব পালন করছেন। তাও আবার সবসময় তাকে পাওয়া যায় না। শুধু পশুদেরকে কৃত্রিম প্রজনন ছাড়া আর কোন চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। পশুদের চিকিৎসার ঔষধ রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি হলেই ভাঙ্গা টিনের ঘরের ভিতরে পানি পড়ে ভিজে যায়। যে কোন সময় এই টিনের ঘরটি ভেঙ্গে যেতে পারে। শায়েস্তাগঞ্জ পশু হাসপাতালটির বাউন্ডারীর পূর্বদিকে এখন পৌরসভার ডাষ্ট বিনের পরিণত হয়েছে। আশেপাশের যত ময়লা আবর্জনা ওই বাউন্ডারীর ভেতরে ফেলা হচ্ছে। এদিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। শায়েস্তাগঞ্জের পশু চিকিৎসা কেন্দ্রটি এখন নিজেই রোগাক্রান্ত। এলাকাবাসীর দাবী এই হাসপাতালটি সংস্কার করে পশু চিকিৎসা উপযোগী করার জন্য।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.