সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

শায়েস্তাগঞ্জে ফক্সি হাজিরা দিয়ে চলছে রেল ক্রসিংয়ের কাজ ॥ দূর্ঘটনার আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে রেল ক্রসিংয়ে কোনো গেইটম্যান নেই। নাজুক অবস্থা স্টেশনগুলোরও। শুধু তাই নয়, অব্যাহতভাবে রেলের কিপ চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রমেই রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়তই সংস্কার করেও তেমন ফল মিলছে না। ক’দিন পরই তা খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আবার রেল ক্রসিং গুলোতে ৩ জন করে গেইটম্যান দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও অনেক এলাকায় নামমাত্র একজন গেইটম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। তাও আবার নিয়মিত নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া-সিলেট রেলওয়ে সেকশনের মাধবপুর উপজেলার মুকুন্দপুর থেকে বাহুবল উপজেলার সাঠিয়াজুড়ি পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের অধীনে এ পথে মোট ব্রিজ রয়েছে ৮৪টি। চালু স্টেশন রয়েছে ৫টি। বন্ধ অবস্থায় রয়েছে আরো ১০টি স্টেশন। যেগুলো চালু আছে সেগুলোর কয়েকটিরও ঘরের দরজা, জানালা ভেঙে গেছে। অফিস, যাত্রীদের বসার স্থান, টয়লেটসহ স্টেশনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ ছাড়া রেলপথে ৪০ শতাংশ কিপ চুরি হয়ে গিয়েছিল। গত একমাস পূর্বে তা লাগানো হয়। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই আবার ১০ শতাংশ কিপ চুরি হয়ে গেছে। শুধু শাহজীবাজার অংশের এক কিলোমিটারে গত এক মাসে কিপ চুরি হয়েছে প্রায় ২৫০টি। এ অবস্থায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ট্রেনগুলো। অনেক ক্রসিংয়ে গেইটম্যান না থাকায় প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটছে এবং অনেক হতাহত হচ্ছেন। এরপরও কর্তৃপক্ষ এর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাছাড়া রেললাইনের শায়েস্তাগঞ্জ হাই স্কুল গেইট, লেঞ্জাপাড়া, শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামিয়া একাডেমি, অলিপুর, ছোট অলিপুর গ্যাস ফিল্ড, নোয়াপাড়া, শাহজিবাজার, ফতেহগাজী, ইটাখলা, তেলিয়াপাড়াসহ প্রায় ২০টি ক্রসিংয়ে ৩ জন করে ৬০ জন লোক নিয়োগ দেয়া রয়েছে। যারা ৮ ঘন্টা করে মোট ২৪ ঘন্টা ডিউটি করে। কিন্তু অধিকাংশ গেইটে একজন করে লোক রয়েছে। যারা ২৪ ঘন্টা ডিউটি করছেন। অন্যরা বাড়িতে বসে বছরের পর বছর পিডব্লিওর কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বেতন নিচ্ছেন। এ ছাড়া ওয়াইন ম্যান ট্রেনের রাস্তা মেরামতসহ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ২০ জন নিয়োগ থাকলেও অধিকাংশই ডিউটি না করে বেতন নিচ্ছেন। এ বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই রেল কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামিয়া একাডেমি গেইটে ৩ জনের মধ্যে একজনকে ডিউটি অবস্থায় পাওয়া গেলেও অন্য ২ জনকে পাওয়া যায়নি। দিপন চন্দ্র দাস নামের একজন গেইটম্যান থাকলেও সে কোনোদিনও ডিউটি করেনি। সে পিডব্লিউ অফিসে কাজ করেন। বিষয়টি স্বীকার করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল্লাহ। তিনি জানান, উর্ধ্বতন অফিসার না থাকায় দিপনের বদলে একজনকে দিয়ে রাখা হয়েছে এবং দিপনকে পিডব্লিউ অফিসে কাজ করানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, একজনের বদলে আরেকজনকে ডিউটি করানোর বিনিময়ে রেলওয়ের পিডব্লিও শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মাধবপুর উপজেলার শাহপুর এলাকায় কোনো রেল ক্রসিংই না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রতিদিন বেশ কয়েকটি আন্তনগর ট্রেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছে। বাস থেকে কম ভাড়া এবং আরামদায়ক ও নিরাপদ বাহন হিসেবে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াতে প্রথম পছন্দ ট্রেন সার্ভিস। এ ছাড়া একই পথ ধরে চলাচলকারী লোকাল ট্রেনগুলোতেও যাত্রী সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ফলে প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে থাকে পরিপূর্ণ। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল্লাহ জানান, সার্বিকভাবে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। এতে সমস্যা দেখা দেয়। তবে একজনের বদলে আরেকজন ডিউটি করে বেতন নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন সবাই ডিউটিতে আছে। কেউ অনুপস্থিত নেই।

 

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.