শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২১ অপরাহ্ন

শীত সহিষ্ণু ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ উদ্ভাবন

হোসাইন মোহাম্মদ হেলিম ॥হবিগঞ্জের বেশিরভাগ অঞ্চলই হাওরবেষ্টিত। এখানকার একমাত্র অর্থকরী ফসল ধান। বন্যা-অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টির মতো তীব্র শীতেও এসব ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যার সমাধানে এবার শীত সহিষ্ণু নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’।

নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের ধান যেমন শীত সহিষ্ণু, তেমনি ফলনও আশানুরূপ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন এই ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করে। এর পরীক্ষণ প্লট পরিদর্শন হচ্ছে হবিগঞ্জের নাগুড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে। সম্প্রতি পরীক্ষণ প্লট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস। এ সময় তারা নতুন এ ধান জাতের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা জানান।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, মার্চ মাসের চৈতালি ঢল আর এপ্রিল মাসের বৈশাখী ঢলে হাওর এলাকার ফসল তলিয়ে যায়। আবার আগাম চাষ করলে শীতের কবলে পড়ে ধান চিটা হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ শুরু করে। এতে সফলতা এসেছে। এরই মধ্যে এর পরীক্ষণ প্লট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওর, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা বাকাটিয়ার হাওর, বানিয়াচং উপজেলার মকার হাওর, নবীগঞ্জ উপজেলার গুঙ্গিয়াজুরী হাওর, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর হাওর, শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওর।

তিনি আরো বলেন, এই ধান হেক্টরপ্রতি ৭ টন ফলন হবে। আমরা এই ধান নিয়ে আরো গবেষণা করব। এর ফলন যাতে ৮-১০ টনে নিয়ে যাওয়া যাওয়া যায় সে চেষ্টা আমাদের থাকবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকটি জাত অবমুক্ত করা হবে। যেগুলোর ফলন আরো বেশি হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, পরীক্ষণ প্লটে নতুন এই জাতের ধান দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জাতটি নিয়ে আমরা বেশ আশাবাদী। শিগগরই এই ধান নতুন জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হবে। এতে হাওরের কৃষক ভাইয়েরা অনেক উপকৃত হবেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ জাতের ফসলের মেয়াদ হবে ব্রি-২৮ ধানের মতো ১৫০ দিন। শীত সহনীয় হওয়ায় অক্টোবরেই এর বীজতলা তৈরি করা যাবে। এতে শীতে বীজতলার কোনো ক্ষতি হবে না।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.