সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটের আয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের ছেলে আয়ান মুমিনুল হক শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল’-এর অধীনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় এ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে তরুণদের উদ্দেশে ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণে বলেন, ‘তরুণরাই আমাদের সাম্প্রতিক উন্নয়নের সম্মুখ সারির লড়াকু শক্তি। এটি আমাদের আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী করে যে, এই তরুণরাই একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিয়ে আসবে।’

‘সেইভ সিলেট’ নামে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সিলেটের আয়ান। বর্তমানে ১ লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী এখানে কাজ করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ‘মোস্ট ইন্সপাইয়ারিং স্টোরি’ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।

সংগঠনের চারটি কার্যক্রম মিলিয়ে হয়েছে একটি গল্প। খাদ্য বিতরণ, নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, পুরুষদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মিশন ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ।

করোনা পরিস্থিতির পর থেকেই খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেইভ সিলেটের মাধ্যমে আয়ান ১ লাখ ১৭ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। করোনাকালে মানুষের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, চিকিৎসকদের জন্য সুরক্ষা ইক্যুইপমেন্টসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

নারীদের এগিয়ে নিতে সিলেট ওয়ান্ডার উইমেন্স প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার নারীকে ৫২টি কোর্সে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। দক্ষ জনবল তৈরিতে এই সংগঠন শুরু করেছিল প্রজেক্ট বাংলা ইউনিভার্সিটি। এই প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার তরুণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করেছেন। এসব প্রশিক্ষণ কর্মশালা এখনও চলমান রয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় ‘মিশন থ্রি মিলিয়ন ট্রিস’ নামে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করেছে সেইভ সিলেট। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী ১০ বছরে সারাদেশে ৩০ লাখ গাছ রোপণ করা হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মার শান্তি কামনা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে ৯৭ হাজার গাছ গত দুই বছরে রোপণ করে ফেলেছে সংগঠনটি।

এই চারটি কার্যক্রম মিলিয়ে একটি গল্প যা স্থান পায় ‘মোস্ট ইন্সপাইয়ারিং স্টোরি’ ক্যাটাগরিতে। আর এসব অনুপ্রেরণাদায়ি কার্যক্রমের জন্যই পুরস্কার পেয়েছেন সিলেটের ছেলে আয়ান মুমিনুল হক।

এই অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পর অনুভূতি প্রকাশ করে আয়ান বলেন, যেকোনো পুরস্কারই আনন্দের এবং ভালো লাগার। ‘শেখ হাসিনা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করতে পেরে আমি দারুণ উচ্ছসিত। আমি মনে করি, এই পুরস্কার আমার কাজের স্বীকৃতি। এই পুরস্কার অর্জনে সামাজিক দায়বদ্ধতাটা আরও বেড়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংগঠন তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও ইউনিট রয়েছে। যেকোনো দূর্যোগে যেন খুব সহজে মানুষকে সাহায্য করা যায়, সে লক্ষ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিট করা হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপিসহ উপস্থিত ছিলেন, রুশ ফেডারেশনের তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের যুব বিষয়ক মন্ত্রী তিমুর সুলেইমানোভ, আইসিওয়াইএফ সভাপতি তাহা আয়হান এবং যুবক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।

উল্লেখ্য, আমেরিকাস্থ নাসার বাংলাদেশী বিজ্ঞানী রফিকউদ্দিন আহমেদের নাতি। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহŸানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন রফিকউদ্দিন। সে সময় মুজিব সরকারকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ত্রাণ সহায়তা দিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ওআইসি প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর বিশ্বের যেকোনো একটি দেশের রাজধানীকে তারা নিজেদের রাজধানী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২০ সালে ঢাকাকে তারা রাজধানী করে। সেখানে আয়োজন করা হয় ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল’।

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও বিশ্বের যুবারা আর্তমানবতার সেবায় যে অবদান রেখেছেন, তার স্বীকৃতি দিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া, যার মাধ্যমে তরুণদের ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একক ও দলীয়ভাবে মোট ১০০ জনকে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.