সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

খবরের শিরোনাম:

সবজি চাষে ব্যস্ত নওগাঁর চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শীতের আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলেই বেশি টাকা আয় করা যায়। এ কথা মাথা রেখে উত্তরাঞ্চলের শস্য ভাণ্ডার নওগাঁয় চলছে সবজি চাষের ধুম।
চাষিদের ভাষ্য,গত বছর করোনাকালীন সময় শাকসবজিতে তেমন দাম না পাওয়ায় এবার পুষিতে নিতে বেশি পরিমাণ জমিতে আবাদ করেছেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে শাকসবজির আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৫৪০ হেক্টর, রানীনগরে ৮০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৮০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৮০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৬০ হেক্টর, পতœীতলায় ২৪৫ হেক্টর, ধামইরহাটে ৪৭৫ হেক্টর, সাপাহারে ২০ হেক্টর, পোরশায় ৮০ হেক্টর, মান্দায় ৫২০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২০০ হেক্টর। এরমধ্যে শিম ৫২০ হেক্টর, মুলা ১৩০ হেক্টর, বেগুন ২৮০ হেক্টর, ফুল কপি ৮৫ হেক্টর, বাঁধা কপি ৩০ হেক্টর, পালংশাক ১০৫ হেক্টর এবং লালশাক ৭৫ হেক্টর শীতকালীন শাকসবজি।

কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা শীতকালীন সবজির চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সেই চারা ক্ষেতে লাগাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ক্ষেত আগাছামুক্ত করতে নিড়ানি দিচ্ছেন। তবে এবার মহামারি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আগাম সবজি চাষে কৃষকরা কাজ করছেন মাঠে।

ক্ষেতজুড়ে ছেয়ে আছে লালশাক। পাশাপাশি ক্ষেতে আগাছাও একেবারে কম জন্মায়নি। তাই ক্ষেতের মধ্যেই বসেছিলেন কৃষক হজরত আলী। সেই কাকডাকা ভোরে জমিতে পা ফেলেন। এরপর থেকেই ক্ষেতের সবজি গাছগুলো ঠিকঠাক রেখে আগাছার গোড়ায় দাউল (স্থানীয় ভাষা) চাচ্ছিলেন অবিরাম হজরত আলী। কাজের চাপে সকালের খাবারের কথাও যেন ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য বাড়ি থেকে খাবার আসার পর খাবারের কথা স্মরণ হয় তার।

ঝটপট মুখ-হাত ধুয়ে খাবার খেয়ে আবার একই কাজ শুরু করেন এই কৃষক। শীতকালীন আগাম সবজি চাষে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামের কৃষকরা। কোদাল, দাউল, মাথল, লাঙল গরুসহ আনুষাঙ্গিক কৃষি সরঞ্জামাদি নিয়ে কাকডাকা ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন কৃষকরা। এরপর ক্ষেতে গিয়ে যে যার মতো কাজে নেমে পড়েন। তাদের কেউ দাঁড়িয়ে বা কোমর বাঁধিয়ে কোদাল মারতে থাকেন। আবার কেউবা গাছ ঠিকঠাক রেখে চারপাশ দিয়ে দাউল চালাতে থাকেন অবিরাম। কেউ কেউ জমি প্রস্তুতির কাজের লাঙল গরু দিয়ে হালচাষের কাজ করছেন। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের আবর্তে গরু দিয়ে হালচাষ পদ্ধতি হারিয়ে যেতে বসেছে।

শীতের সবজির বর্ণিল সবুজে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মুলা, পটল, পালং ও লাল শাকসহ রকমারি শীতের সবজি। নওগাঁ জেলার কয়েকটি উপজেলার একাধিক সবজিখ্যাত গ্রাম ঘুরে শীতের সবজি নিয়ে কৃষকদের কর্মব্যস্ততার এমন দৃশ্য ওঠে আসে।সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নে চানপুর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, আগাম জাতের সবজি হিসেবে আট কাঠা জমিতে শিম লাগিয়েছি। এরআগে ওই মাচায় করলা ছিল। তাই শিমের মাচা তৈরী করতে কোন খরচ হয়নি। এই পরিমাণ জমি থেকে সপ্তাহে ৫-৬ কেজি শিম উঠছে। কিছুদিন পর আরো বেশি পরিমাণ শিম উঠা শুরু হবে। এখন বাজারে শিম কম থাকায় দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। করোনাকালীন সময় শাকসবজির দাম কম ছিল। তখন আমাদের মতো অনেক কৃষকই দাম পাইনি। এবার লোকসান পুষিয়ে নিতে বেশি করে শাকসবজির আবাদ করা হয়েছে। এমন দাম থাকলে মোটামুটি লাভবান হওয়া যাবে।নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামশুল ওয়াদুদ বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের শাকসবজির ভালো উৎপাদন হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিরা বেশি পরিমাণে শাকসবজির চাষ করেছেন। আগাম জাতের শাকসবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

তিনি বলেন, এ বছর বন্যা ও দুর্যোগ না হওয়ায় কৃষকরা বীজ বপন থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা সুষ্ঠুভাবে করতে পারছেন। তেমন কোনো রোগবালাই নেই। এখন অল্প পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে ভরা মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম পাবে বলে আশা করছি।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.