সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

সরকারের উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ ‘গিগা সিটি’ হচ্ছে পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্বের সবধরনের আইটি সুবিধা নিয়ে পূর্বাচলকে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিনির্ভর ‘গিগা সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য শহরটির সবধরনের রূপান্তরে তথ্য-প্রযুক্তি যুক্ত করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি (বিটিসিএল)।

বিটিসিএল সূত্র জানায়, সরকার ২০২৩ সালের মধ্যেই পূর্বাচল গিগা সিটির অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ করতে চায়। এতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।গিগা সিটি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ কে এম হাবিব জানান, পূর্বাচলকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তির সবকিছুর সমাবেশ ঘটানো হবে। প্রতিটি বাড়িতে হাইস্পিড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ ও টেলিফোন সংযোগ থাকবে।

তিনি আরো জানান, বর্তমান বিশ্বে আধুনিক সিটি গড়তে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্বাচলে সেই ধরনের প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটানো হবে। এ গিগা সিটির বাসিন্দারা কল্পনার চেয়েও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

হাবিব জানান, পূর্বাচল গিগা সিটিতে ঘরে ঘরে যে কেবল সংযোগ দেওয়া হবে তাতে ট্রিপল-প্লে (ভয়েস, ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ) সুবিধাও থাকবে।বিটিসিএল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে গিগা সিটি বাস্তবায়ন কমিটি সম্ভাবনা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।

ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী, গিগা সিটির আয়তন হবে ৬ হাজার ১৫০ একর। একে ভাগ করা হবে ছোট-বড় ৩০টি সেক্টরে। বিভিন্ন আকারের আবাসিক প্লটের সংখ্যা হবে ২৬ হাজার।

এ সিটির প্রতিটা ভবনে থাকবে ফাইবার অপটিক সংযোগ। ভবনের বাসিন্দারা ব্যবহার করতে পারবেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। বর্তমানে কোনো ভবনে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পেতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসে সংযোগ দিয়ে যায়। কিন্তু গিগা সিটির প্রতিটা ভবনে বিদ্যুৎ, পানি ও ডিস সংযোগের মতো থাকবে ইন্টারনেট সংযোগও। চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে।

বিটিসিএল’র তথ্যানুযায়ী, গিগা সিটিতে থাকবে ১ লাখ পিএসটিএন (ল্যান্ডফোন) সংযোগ। থাকবে সর্বাধুনিক জিপন (গিগাবিট প্যাসিভ অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক)। এ সিটিতে ইনস্টল করা হবে ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ভয়েস, ইন্টারনেট, এফটিটিএক্স ইত্যাদি। এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পপ একসেস থাকবে। অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার জন্য গিগা সিটিতে থাকবে ২ কোটি রাউটার ও হাই-অ্যান্ড সুইচ। বিটিসিএল পূর্বাচল গিগা সিটির জন্য দুটি কেবল স্থাপন করছে। এর একটি রাজধানীর মগবাজার এক্সচেঞ্জ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাবে। আরেকটি যাবে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে পূর্বাচল প্রকল্প এলাকায়। বিটিসিএল কেবল বসাবে ৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে গিগা সিটির জন্য ৩০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার হবে।

এছাড়া প্রটেকশন ও রেস্টোরেশনের জন্য গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কেবল নেয়া হবে। ফলে সব মিলিয়ে বিটিসিএলকে কেবল বসাতে হবে ৭১ কিলোমিটার।

রাজউকের প্রকৌশল দফতর জানায়, রাজধানী শহরের পাশে সবধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ নতুন শহর করাই ছিল পূর্বাচল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ২৭৭ দশমিক ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অংশে রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭ দশমিক ৩৬ একর এবং গাজীপুর অংশে ১৫০০ একর জমি, যা ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। বাকি ১৫০ একর জমি ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানায় কুড়িল ফ্লাইওভার এবং লিংক রোড নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, এ প্রকল্পকে ঘিরে রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার পয়েন্ট থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত মোট সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এটাকে বলা হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় এক্সপ্রেসওয়ে।

পশ্চিমের প্রগতি সরণি ও বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে আগের ইস্টার্ন বাইপাসকে সংযুক্তকারী এ সড়ককে শুধু গতিময় স্থাপনাই নয়, বলা হচ্ছে অন্যতম পর্যটন স্থাপনাও। আট লেনের এ এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে থাকছে ৬ লেনের সার্ভিসওয়ে ও দুই পাশে ১০০ ফুটের পাড় বাঁধানো খাল।

অত্যাধুনিক এ এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে না কোনো ধরনের স্টপওভার পয়েন্ট, সিগন্যালিং সাইন বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা। ছোট, মাঝারি ও বড় সবধরনের যানবাহন চলবে আপন গতিতে। কারোর সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ হওয়ার সুযোগ নেই। এর নির্মাণকাজ শেষ হলে একটি গাড়ি ৬-৭ মিনিটে বাধাহীনভাবে পার হওয়া যাবে সাড়ে ১২ কিলোমিটার পথ।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী জানান, এ প্রকল্পে আগে রাস্তার কাজটা শেষ করা হবে যাতে মানুষ চলাচল করতে পারে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.