রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ডেস্ক রিপোর্ট বেতন-ভাতা (মাইলেজ) সংক্রান্ত দাবি মেনে না নেওয়ায় সারাদেশে ধর্মঘট পালন করছেন ট্রেন চালকরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বুধবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে তারা সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারাদেশে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভোর থেকে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ ধর্মঘটে বিপাকে সাধারণ মানুষ ও অফিসগামী যাত্রীরা।

রেলওয়ের রানিং স্টাফ (চালক-গার্ড) ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় চালকরা কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। ট্রেনের লোকো মাস্টার ও রানিং স্টাফ কর্মচারীরাও কর্ম বিরতিতে গেছেন।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এদিন সকালের ট্রেনে যারা ঢাকা ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন, সেসব যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন স্টেশনে। তবে তারা কোনো তথ্য পাচ্ছেন না ট্রেন ছাড়ার বিষয়ে। তাতে তাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে।

এছাড়া, যারা টিকিট নিয়েছেন তারা পরের ট্রেনে যাবেন নাকি টাকা ফেরত পাবেন, এসব বিষয়েও পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি এখন পর্যন্ত। এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তারা তথ্য দিচ্ছেন না।

যাত্রীরা জানান, ধর্মঘট করলে আগেই ঘোষণা দিতো। তা না করে হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে আন্দোলন করায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যাত্রী বলেন, ‘ট্রেন যেন মিস না হয় তার জন্য সারারাত না ঘুমিয়ে এসেছি। সেহরি খেয়েই রওয়ানা দিয়েছি। কিন্তু এসে দেখি ট্রেন চলবে না। তাদের দাবিদাওয়া থাকলে তারা মিটিয়ে নেবে। কিন্তু ভুক্তভোগী আমরা কেন হব?’

আরেক যাত্রী বলেন, ‘রমজান মাসে রোজা থেকে এ ধরনের হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ধর্মঘট করতে চাইলে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে করতো। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এভাবে ট্রেন বন্ধ করে আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে রেলওয়ে।’

জানা গেছে, রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রেনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠক চলছে। সেই বৈঠক থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত না আসায় এখনও ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি।

রেলওয়ের (পশ্চিম) মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রেলওয়ের রানিং স্টাফরা অবসরকালীন সুবিধার সঙ্গে ৭৫ শতাংশ রানিং অ্যালাউন্সের দাবিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সংবাদটি জানার পর ৬টার দিকে স্টেশনে গিয়ে দেখি সব ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।

ট্রেন চালকদের একটা দাবি, নির্দিষ্ট আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে যে অতিরিক্ত ভাতা (মাইলেজ) দেওয়া হয়, সেটা যেন সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা করে সেটা পরিশোধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে রেলের রানিং স্টাফদের মাইলেজ সুবিধা বাতিল করে। রানিং স্টাফ বলতে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটি) বুঝানো হয়।

মাইলেজ হলো রেলের সংস্থাপন কোড অনুযায়ী, রানিং স্টাফরা দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বা ১০০ মাইলের বেশি ট্রেন চালালে একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা রানিং ভাতা হিসেবে পাবেন। ভাতার ৭৫ শতাংশ টাকা যোগ হতো পেনশনে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.