মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

খবরের শিরোনাম:
শায়েস্তাগঞ্জ ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক ভিডিওকলে মাধবপুরের রেহানাকে বাঁচানোর আকুতি, ‘আমি আর সহ্য করতে পারতেছি না’ মৌলভীবাজারে চা-শ্রমিকের ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় এমপি কেয়া চৌধুরী আড়াই কোটি টাকার সার-বীজ বিনামূল্যে বিতরণ সার চাওয়ায় কৃষকদের হত্যা করে বিএনপি -এমপি আবু জাহির উপজেলা নির্বাচনে নবীগঞ্জে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা নিয়মিত খেলাধূলা আয়োজনে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে-এমপি আবু জাহির দেশে হিটস্ট্রোকে আরও ৩ জনের মৃত্যু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল

সাহাবুদ্দীন আহমদ বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র : প্রধান বিচারপতি

প্নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

আজ রবিবার (২০ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সাহাবুদ্দীন আহমদের জানাজা শুরুর আগে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।

এর আগে সকাল দশটার দিকে সাহাবুদ্দীন আহমদের মরদেহবাহী গাড়িটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছেছে। ১০ টা ২০ মিনিটে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সমিতির সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস। পরিবারের পক্ষ থেকে সাহাবুদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল আহমদ বক্তব্য দেন।

জানাজার আগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের স্বর্ণযুগের যে কয়েকজন বিচারপতি পেয়েছিলাম তাঁদের মধ্যে সাহাবুদ্দীন আহমদ একজন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই চলে গেছেন। আজকে বিদায় জানাচ্ছি।’

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘সাহাবুদ্দীন আহমদ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তাঁর দেওয়া রায়ের মাধ্যমে। অষ্টম সংশোধনী মামলা, কখন স্যুট গ্রহণযোগ্য হবে বা হবে না—এই জাতি সুনির্দিষ্টভাবে বিচারাঙ্গনের সবাই সারা জীবন মনে রাখবে। এখন থেকে ৫০ বছর, ১০০ বছর পরেও বিচারপ্রার্থী জনগণ উনার রায়ের বেনিফিট (সুফল) পাবেন।’

জানাজার আগে সাহাবুদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল আহমদ বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে দেখে মনে হয়েছে উনি মনে-প্রাণে বিচারক ছিলেন। উনার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সন্তান, তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের ও সবার সঙ্গে যে ব্যবহার তাতে মনে হয়েছে মনেপ্রাণেই উনি একজন বিচারক ছিলেন। সবার সঙ্গে সমান ব্যবহার করতেন উনি।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ গতকাল সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

জানাজায় প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

জানাজার পরে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সাহাবুদ্দীন আহমদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, ডাকসু ও ছাত্র ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ১০ টা ৪০ মিনিটের দিকে সাহাবুদ্দীন আহমদের লাশবাহী গাড়িটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁর নিয়োগ স্থায়ী হয়। ১৯৮০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন।

১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দেশের ষষ্ঠ প্রধান বিচারপতি ছিলেন তিনি।

এরশাদ সরকারের পতনের পর সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আবার বিচারাঙ্গণে ফেরেন। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি অবসরে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে আবার রাষ্ট্রপতি করা হয়।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.