সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

সিলেটে কমিউনিটি সেন্টার থেকে নারীসহ বাবুর্চির লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের কানাইঘাটে একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে নারীসহ দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার গাছবাড়ি বাজারস্থ আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অজ্ঞান অবস্থায় আরো এক বাবুর্চিকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি। নিহতরা হলেন, কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি নয়াগ্রামের মৃত রহমত উল্ল্যাহর ছেলে সোহেল ও ওসমানীনগর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের সালমা বেগম।

তাছাড়া আহত দুলাল উদ্দিন নাজিম কানাইঘাটের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার মখাই মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, কানাইঘাটের গাছবাড়ি বাজারের আনন্দ কমিউনিট সেন্টারের বুধবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ২ জন বাবুর্চি ও তাদের সহযোগী একজন নারী রান্নার কাজ করছিলেন। রান্না ঘরের পাশে খাবার খেয়ে সেন্টারের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। সেন্টারের কনে পক্ষের লোকজনও একটি কক্ষে শুয়ে ছিলেন। সকালে রান্নার জন্য ঘরের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে রান্না ঘরের একটি ফাঁক দিয়ে শিশুকে প্রবেশ করিয়ে দরজা খুলে দেখা যায় সবাই অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ তিনজনকে অচেতন অবস্থায় কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কতব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে অজ্ঞান অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, রাতে তিনজন এক কক্ষে ঘুমাতে যায়। সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের একটি ফাঁক দিয়ে শিশুকে প্রবেশ করে দরজা খুলে তাদেরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অপরজনকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হতাহতদের উদ্ধারের সময় ঘরের মধ্যে কয়েল ও রান্না ঘরের প্রচুর কালো ধোঁয়া ছিল। তবে পুরো বিষয় ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

আহত দুলালের ভাই বিলাল উদ্দিন নাজিম বলেন, আমরা সকালে খবর পেয়েছি। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার ভাইকে ওসমানী হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করেছি। এখনো তার জ্ঞান ফিরেনি। পুরো ঘটনা জানতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমার ভাই সোহেল বাবুর্চির সঙ্গে প্রায় ১০ বছর থেকে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন স্থানে তারা রান্নার কাজ করে আসছেন। ঘটনার দিন কি হয়েছিল জানি না। যে নারী মারা গেছেন তিনি তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.