শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

সুতাং নদী এখন অস্থিত্ব সংকটে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা প্রবেশ করে শায়েস্তাগঞ্জের লাখাই হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়া সুতাং নদী এখন অস্থিত্ব সংকটে। শিল্প কারখানার বর্জ্য ও দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় নদীর পানি দুষণসহ ভরাট হয়ে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে খরস্রোতা এ নদী। যার ফলে নদীটি এখন হবিগঞ্জবাসীর দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে আবার নদীর পাড় ভরাট করে ঘরবাড়ি তৈরি করছেন। এতে করে নদীর রূপরেখা হারিয়ে যেতে বসেছে। নদীতে যেটুকু পানি রয়েছে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাই নদীপাড়ের লোকজন মাটির নিচ থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে বোরো আবাদসহ নানা ফসল চাষাবাদ করছেন।

মারাত্মক দূষণে পানি বিষাক্ত হয়ে প্রতিনিয়তই অসুস্থ হচ্ছেন নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ। শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ থেকে শুরু করে নানা পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। এমনকি নদীতে এখন আর মাছের দেখা পাওয়া যায় না। নদীর বিষাক্ত পানি পান করলে মারা যাচ্ছে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও।অলিপুর শিল্প এলাকা থেকে বয়ে গেছে শৈলজুড়া ভাটি খাল। অলিপুর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার অতিক্রম করে এ খালের সংযোগ হয়েছে গোড়াবই গ্রামে সুতাং নদীতে। ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন শিল্প কারখানার বিষাক্ত কালো পানি এ খাল দিয়ে সুতাং নদীতে প্রবেশ করছে।

এক সময় সুতাং নদীতে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরতো। সেই সময়ে শুকনো মৌসুমেও প্রচুর পরিমান মাছ পাওয়া যেতো। এখন আর তা চোখে পড়ে না।সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরসহ নানা এলাকার শিল্পের বিষাক্ত কালো পানি শৈলজুড়া ভাটি খাল দিয়ে সুতাং নদীতে প্রবেশ করছে। এ কারণে নানা প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত। অনেক স্থানে জেগে উঠছে চর। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদীর চরে লোকজন বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এখন তা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পরিকল্পিতভাবে খনন না হওয়ায় শীতকাল আসামাত্র শুকিয়ে যায় এ নদীটি। নদীতে চর জেগেছে। সেখানে স্থানীয় কৃষকরা কৃষি কাজ করছেন। শিল্প বর্জ্যের কারণে পানি দূষিত হওয়ায় কৃষকরা পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে বোরো ধান চাষ করছেন।নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুখলিছ মিয়া বলেন, নদীতে পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে। তার সঙ্গে বিভিন্ন ‍শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পদার্থের কালো পানি নদীতে প্রবেশ করছে। এ অবস্থা থেকে নদীটি রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে খনন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুতাং নদীসহ এর আশপাশের খালগুলোর পানি বর্জ্যের কারণে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বাপা নদী রক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নদীর পানি খেয়ে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি মারা যাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট চর্মরোগসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষজন।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, প্রকল্প আসলে দ্রুত নদী খনন করা হবে। নদী দূষণমুক্ত রাখতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলা উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, সুতাং নদী রক্ষায় কার্যক্রম চলছে। দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। সরেজমিনে দেখার পর খনন ও দখল, দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.