ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি Logo হবিগঞ্জ কারাগারে আসামির মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বৃক্ষরোপণ প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর: আহমেদ আলী মুকিব Logo বাহুবলে পানিতে ডুবে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপের মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ইউএনওর অভিযান Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে শায়েস্তাগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo হবিগঞ্জে মায়ের অভিযোগে ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে চুনারুঘাটে আল আমিন Logo গণভোটকে অস্বীকার করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিএনপি: মামুনুল হক Logo শায়েস্তাগঞ্জে দেশ নাট্যগোষ্ঠীর ৩৩ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও একটি ব্রিজের অপেক্ষায় নবীগঞ্জের ৭ গ্রামের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার

নবীগঞ্জে শতবছরের পুরনো ৭টি গ্রাম-ছোট শাখোয়া, পথেনগর, সর্দারপুর, নোয়াপাড়া, অমন্ডমিয়া, পাঞ্জারাই ও করগাঁও। এই গ্রামগুলোর লোক চলাচলের জন্য কুশিয়ারার শাখা ‘বরাক’ নদীতে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা একাধিকবার নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। ফলে দুর্ভোগ ঘোচেনি সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের।

সরেজমিন দেখা যায়, করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে কুশিয়ারার শাখা বরাক নদীর অবস্থান। নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছেন।

সাঁকো দিয়ে আসা-যাওয়া করা কয়েকজন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তারা তা রক্ষা করতে আসেননি।

৮০ বছর বয়সি কাচা মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে শাখা বরাক নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও এই সাঁকোই পথচলার ভরসা। কোনো সরকার একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন মনে করেনি।

মজর আলী মিয়া নামে আরেকজন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই সাতটি গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ব্রিজ নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ধরণা দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের দুর্ভোগ দূর করতে এগিয়ে আসেনি।

জানা গেছে, ছোট শাখোয়া, পখেনগর, সদারপুর, নোয়াপাড়া, গুমগুমিয়া, পাঞ্জারাই ও করগাঁওয়ের জনবসতি শত বছরের পুরনো গ্রাম। শুরু থেকেই লোকজন পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। বর্ষাকালে সাঁকো হলেও এর ওপর দিয়ে মরদেহ এবং অসুস্থ রোগী নিয়ে যাওয়া কষ্টকর।

করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলজিইডির নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আলম বলেন, বরাক নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪
১৭৭ বার পড়া হয়েছে

স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও একটি ব্রিজের অপেক্ষায় নবীগঞ্জের ৭ গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪

নবীগঞ্জে শতবছরের পুরনো ৭টি গ্রাম-ছোট শাখোয়া, পথেনগর, সর্দারপুর, নোয়াপাড়া, অমন্ডমিয়া, পাঞ্জারাই ও করগাঁও। এই গ্রামগুলোর লোক চলাচলের জন্য কুশিয়ারার শাখা ‘বরাক’ নদীতে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা একাধিকবার নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। ফলে দুর্ভোগ ঘোচেনি সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের।

সরেজমিন দেখা যায়, করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে কুশিয়ারার শাখা বরাক নদীর অবস্থান। নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছেন।

সাঁকো দিয়ে আসা-যাওয়া করা কয়েকজন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তারা তা রক্ষা করতে আসেননি।

৮০ বছর বয়সি কাচা মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে শাখা বরাক নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও এই সাঁকোই পথচলার ভরসা। কোনো সরকার একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন মনে করেনি।

মজর আলী মিয়া নামে আরেকজন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই সাতটি গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ব্রিজ নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ধরণা দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের দুর্ভোগ দূর করতে এগিয়ে আসেনি।

জানা গেছে, ছোট শাখোয়া, পখেনগর, সদারপুর, নোয়াপাড়া, গুমগুমিয়া, পাঞ্জারাই ও করগাঁওয়ের জনবসতি শত বছরের পুরনো গ্রাম। শুরু থেকেই লোকজন পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। বর্ষাকালে সাঁকো হলেও এর ওপর দিয়ে মরদেহ এবং অসুস্থ রোগী নিয়ে যাওয়া কষ্টকর।

করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলজিইডির নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আলম বলেন, বরাক নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।