বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

খবরের শিরোনাম:
জুড়ীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ছয় দিনের সফরে থাইল্যান্ডের পথে প্রধানমন্ত্রী নবীগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল শায়েস্তাগঞ্জে রাজাকারের নামে ২টি রাস্তা নামকরণ বাতিলের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ শায়েস্তাগঞ্জে সার-বীজ বিতরণ করলেন এমপি আবু জাহির রাজনগর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর শায়েস্তাগঞ্জ ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক ভিডিওকলে মাধবপুরের রেহানাকে বাঁচানোর আকুতি, ‘আমি আর সহ্য করতে পারতেছি না’

হঠাৎ তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুরে হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। এতে করে তিস্তার বুকে চাষাবাদ করা ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ফসল ডুবিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। সারা বছরের খাদ্যের যোগান দেওয়া ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চিন্তার ভাজ পড়েছে কৃষকের কপালে। ভারত থেকে আসা পানির কারণে তিস্তার বাড়ি বেড়েছে বলছেন পাউবো’র কর্মকর্তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উজানের পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ১ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এদিকে চৈত্র মাসে তিস্তায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া উপজেলায় নদীর বুকে কৃষকের মিষ্টি কুমড়া, বাদাম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউয়িনের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, গত ৩০ বছরেও চৈত্র মাসে তিস্তা নদীতে পানি বাড়েনি। নদী ভাঙনের কারণে আবাদী জমি তিস্তা নদীতে চলে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার বুকে চাষাবাদই আমাদের সারা বছরের খাবারের যোগান দেয়। নদীর বুকে মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ-রসুন, লাল শাক ও বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। হঠাৎ বন্যায় সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বছর কীভাবে চলব, ভেবে পাচ্ছি না।

কাউনিয়ার ঢুষমারার চর এলাকার কৃষক হারুন উর রশিদ বলেন, চৈত্র মাসে তিস্তার পানি কেন বাড়ল জানা নাই। প্রতি বছরের চৈত্র মাসে এমন পানি আসে না। তাই আমরা জেগে ওঠা চরে নানান ধরনের ফসল ফলাই। এ বছর হঠাৎ পানি এসেছে। আমার প্রায় ৬ একর আবাদি জমির, ধান, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষকের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

গঙ্গাচড়া লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা নদীর পানি এই সময় বাড়ার কথা নয়। জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিকে তিস্তা নদীর পানি বাড়ে। কৃষকরা প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে ফসল আবাদ করেন। কিন্তু দুই-তিন দিন ধরে চৈত্র মাসেই তিস্তা নদীর পানি বেড়ে গেল। ফলে নদীর বুকে চাষ করা ভুট্টা, বাদাম, বোরো ধান তলিয়ে গেছে। আমার এলাকার কৃষকরা এই ফসল দিয়েই সারা বছর চলত। এবার তারা অনেক ক্ষতিগ্রম্ত হলেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, নদীর জন্য পানি প্রয়োজন। সেই পানি আমরা পেয়েছি। ভারতে বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তিস্তার বুক পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। নদীর বুকে চাষ করা ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.