সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

খবরের শিরোনাম:

হবিগঞ্জে ছবি এঁকে প্রতিবাদ, বন্যপ্রাণীর বাসস্থান রক্ষার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রেমা কালেঙ্গা, সাতছড়ি, লাঠিটিলা, সুন্দরবনসহ দেশের সকল বন্যপ্রাণির আবাসস্থল রক্ষার দাবিতে “ছবি এঁকে প্রতিবাদ’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

‘বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষা করি, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসি’ এই প্রতিপাদ্যে আজ ৩ মার্চ ২০২২ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা এ কর্মসূচি পালন করে।

বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ছবি এঁকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশে ক্রমাগত বন্যপ্রাণির আবাসস্থল বিপন্ন হয়ে পড়ছে। একই কারণে বন্যপ্রাণির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। দেশের বন্যপ্রাণির আবাসস্থল রক্ষা করা না গেলে জীব-বৈচিত্রের ক্ষেত্রে বিশাল সংকট সৃষ্টি হবে। বন্যপ্রাণির সংকট একসময় মানবসমাজকে সংকটে নিপতিত করবে। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে না পারলে এদেশ বাসযোগ্য থাকবে না।

মৌলবীবাজার জেলার বন্যপ্রাণি সমৃদ্ধ লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক সম্পর্কে বক্তারা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, পার্কটি বানানোর পেছনের যুক্তি কী? যুক্তি দেখানো হচ্ছে; বন্যপ্রাণি সুরক্ষা পাবে। কিভাবে বন সুরক্ষা পাবে? বাংলাদেশে মহাবিপন্ন, বিপন্ন ও সংকটাপন্ন প্রাণির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এই জন্য দায়ী কিছু সংখ্যক মানুষ। দায়ী মানুষগুলোর মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। বন, বন্যপ্রাণি ও জীব-বৈচিত্রের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। দায়িত্বশীল মানুষের সংখ্যা বাড়লে বিপন্ন বন্যপ্রাণি রক্ষা পাবে। তাই এখনই জরুরীভিত্তিতে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল রক্ষায় সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বে বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে দিবসের পটভূমি তুলে ধরেন বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তোফাজ্জল সোহেল। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. জহিরুল হক শাকিল।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাপা হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকী হারুন, প্রভাষক শামীমা আক্তার, সদস্য আসমা খানম হ্যাপি, আফরোজা সিদ্দিকা, সোহানা বেগম রুজী হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমির অধ্যক্ষ আশীষ আচার্য্য, তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, ‘বন্যপ্রাণি না থাকলে আমাদের বন থাকবে না। আর বন না থাকলে পৃথিবীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা সাতছড়ি, লক্ষ্মীবাউরসহ আমাদের সকল বিপন্ন বনভূমি রক্ষা করতে হবে। বনভূমি রক্ষা পেলে বন্যপ্রাণিও রক্ষা পাবে।’

বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদী ছবি আঁকায় অংশ নেন, চিত্রশিল্পী আশিস আচার্য, মো. জসিম উদ্দিন, প্রবাল দাস নিবিড়, প্রহর রায়, তৃষিতা রায় পর্না, অনুরাধা সূত্রধর, রোকসানা জান্নাত প্রমি, অলক গোপ, প্রবাল বৈধ্য সৃজন, পুস্পিতা দাস, শেমাশ্রী আচার্য, পুষ্পিতা বৈদ্য সাথী, অভিষেক আচার্য, নাবিলা মরিয়ম আদিবা, সুস্পিতা বৈদ্য সিথী, সৃষ্টি বৈদ্য পিউ, শশীমণি প্রমুখ।

এসময় চিত্রশিল্পীরা বাংলাদেশের বন ও বিরল বন্যপ্রাণির ছবি আঁকেন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.