বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জে বেলা’র আলোচনা সভা যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলাতেই বালু পাওয়া যায়। তবে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় সিলিকা বালু অপেক্ষাকৃত বেশি। বালু ব্যবসায়ীরা বালু সমৃদ্ধ অনেক টিলা এবং চা-বাগানকেও বালুর উৎস্যস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলায় ৩০টি বালুমহাল আছে। বালু উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট অনুকূল স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা উচিত নয়। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে ছড়া সংলগ্ন কৃষিজমি, বাঁশঝাড়, গাছগাছালি এবং বসতবাড়ি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশের এই বিপর্যয় রোধে বালু উত্তোলনের নির্দিষ্ট অনুকূল স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি সংশিষ্ট সংস্থাকে মনিটরিংয়ে থাকতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আয়োজনে হবিগঞ্জে ‘অবৈধ ও অপরিকল্পিভাবে বালু উত্তোলন; প্রতিবেশ ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাপা হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকালে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বেলা’র কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, চা-বাগান থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা প্রদান বন্ধ আছে। সরকারি বালুমহাল থেকে সাধারণত কোনো অভিযোগ আসে না। অভিযোগ এলে অবশ্যই আমরা পদক্ষেপ নেবো। কিন্তু বালু উত্তোলন প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। নতুবা নদী তার গতিপথ হারাবে। নদী আমাদের জীবন। নদী রক্ষায় আমাদের সবাইকে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিজেন ব্যানার্জি, পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, বাপা’র হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হবিগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নয়ন মনি সূত্রধর, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র উপ-মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, হবিগঞ্জ জেলা বারের সভাপতি মনজুর উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার উল্লেখ করেন, হবিগঞ্জে ২৩টি সিলিকা বালুমহাল ও ৭টি সাধারণ বালুমহাল রয়েছে। ছড়াগুলো থেকে বালু উত্তোলন করা হলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। এমতাবস্থায় বর্ণিত এলাকাসমূহ বালুমহালের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.