শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জ বারী-১২ জাতের বেগুন চাষে কৃষকের মুখে হাসি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের লামাতাশী গ্রামে এক সাথে জমিতে চার ফসল চাষ হয়েছে। এখানে মুল ফসল বারী-১২ জাতের উচ্চ ফলনশীল বেগুন। এসব ফসল চাষ করে লাভবান কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়া। তার চাষকৃত এসব সবুজ বেগুন দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। ওজনে একেকটি প্রায় ১ কেজি। সুস্বাদু এই জাতের বেগুন গাছগুলো নুয়ে পড়েছে বেগুনের ওজনের কারণে।

বাড়ির পাশে প্রায় ১৫ শতক জমিতে তিনি বারী-১২ জাতের বেগুন চাষ করে বাজিমাত করেছেন। উর্বর মাটি এবং সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা বারী বেগুনের গাছগুলোতে ফলনও হয়েছে বাম্পার।

প্রতিটি গাছেই ৬-৭টি এসব বড় বড় বেগুন ধরে মাটি পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে। বেগুন গাছের ফাঁকে ফাঁকে রঙিন বাঁধা ও ফুলকপি চাষ এবং খিরার চাষ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জাতের বেগুনের চাষাবাদ থাকলেও বাহুবল উপজেলার লামাতাশী গ্রাম ছাড়া বারী-১২ জাতের বেগুন আর কোথাও ফসলের মাঠে চোখে পড়েনি।

কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়া জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামিমুল হক শামীম তাকে বেগুনের বীজ সংগ্রহ করে দেন। তিনি তার উৎসাহে বারী-১২ জাতের বেগুনের চাষ করে লাভবান। যে পরিমাণ বেগুন ও ফুল আছে তাতে আসন্ন রমজান মাসে বাড়তি টাকা আয় হতে পারে বলে আশাবাদী এ কৃষক। এছাড়া বেগুনের সাথে রঙিন ফুল ও বাঁধাকপি এবং খিরার ফলনও ভাল হয়েছে। এসব বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাবে।

এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, সরকারি পর্যাপ্ত দিক নির্দেশনা, প্রণোদনা ও সহযোগিতা পেলে স্থানীয় কৃষিতে বিপ্লব ঘটনা সম্ভব। মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়া কৃষিতে বারী-১২ জাতের বেগুন চাষে সফলতা এনেছেন। আমরা তার শুভকামনা কামনা করি। আগামী মৌসুমে আমাদেরও বারী-১২ জাতের বেগুন চাষ করার ইচ্ছে রয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামীমুল হক শামীম জানান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুলের কাছ থেকে বীজ নিয়ে এসে কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়াকে দিলে তিনি বেগুন চাষে সফলতা পান। ক্ষেতে পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় ফেরোমন ও হলুদ ফাঁদ। ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার।

তিনি জানান, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের বিভিন্ন স্থানে শীতকালীন শাক সবজিসহ রবিশস্য খুবই ভালো হয়েছে। মাটি উর্বর থাকায় ফলনও ভালো হয়ে থাকে। বারী-১২ জাতের বেগুন চাষ লাভজনক। পোকার আক্রমণ কম এবং ক্ষতিসাধিত হয়ে থাকে। কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়াকে সব ধরনের সহযোগিতা পরামর্শ দেয়া হয়।

উপজেলায় প্রথমবার চাষ হয়েছে বারী-১২ জাতের বেগুন। কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়ার বেগুন চাষ দেখে স্থানীয় কৃষকরা আগ্রহী হয়েছেন। আগ্রহী কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়েছি। তারা আগামী মৌসুমে বারী-১২ জাতের বেগুন চাষ করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.