সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই উপজেলায় ১৩১ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টি ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৩য় ধাপের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা গতকাল সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এই ধাপের নির্বাচনে হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আগামীকাল বুধবার (২৯ মে) ভোটগ্রহণ হবে। সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ওই তিন উপজেলায় ১৩১ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৭টি ও লাখাইয়ে ৩৪টি ও শায়েস্তাগঞ্জে ৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপুর্ণ রয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে বিজিবি, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ জন চেয়ারম্যান, ১০ জন পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান ও ৪ জন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মোতাচ্ছিরুল ইসলাম (আনারস), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম (কাপ পিরিচ), জেলা বিএনপি নেতা মহিবুল ইসলাম শাহীন (মোটর সাইকেল), আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াসিম উদ্দিন খান (ঘোড়া), কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আশিকুর রহমান (হেলিকপ্টার) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিয়াজ মাহমুদ চৌধুরী লিংকন (দোয়াত কলম)।
পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১০ প্রার্থী। তারা হলেন, বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান আউয়াল (টিউবওয়েল), মোঃ নুরুল হক টিপু (চশমা), কাজল আহমেদ (বই), কাজী মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম (বৈদ্যুতিক বাল্ব), সোহাগ চৌধুরী (তালা), মামুন মিয়া (পালকি), সালেহ আহমেদ চৌধুরী (মাইক), আব্দুর রহমান সেলিম (টিয়া পাখি), মোঃ শাহীনুজ্জামান (গ্যাস সিলিন্ডার) ও সারোয়ার হোসেন (উড়ো জাহাজ)।
নারী ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৪ জন। তারা হলেন, বর্তমান নারী ভাইস-চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা বেগম (ফুটবল), সৈয়দা শরীফা আক্তার কুমকুম (কলস), নুরুন নাহার (হাঁস) ও আয়েশা খানম রানী (প্রজাপতি)। এই উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৭৪টি। এর মধ্যে ৬৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
এছাড়া ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লাখাই উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৪ হাজার ১৩৭ জন ও মহিলা ভোটার ৬১ হাজার ৯৪১ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন। ওই উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৩৯টি। এর মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।
লাখাই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজ, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আমীরুল ইসলাম আলম ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক ইকরামুল মজিদ চৌধুরী শাকিল। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৭ জন। তারা হলেন, আরিফ মিয়া, কাউছার আহমেদ, মানিক মোহন দাস, মোঃ আব্দুল মতিন, রাজিব কান্তি রায়, রাসেল আহমেদ ও নোমান মোল্লা। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৪ জন। তারা হলেন, আলেয়া বেগম, তানিয়া আক্তার, প্রিয়া বেগম ও মোছাঃ নাঈমা আক্তার সুমি।
শায়েস্তাগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৪ জন প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩ প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হচ্ছেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল (মোটরসাইকেল), সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা আতাউর রহমান মাসুক (ঘোড়া), মোঃ রকিব আহমেদ (দোয়াত কলম), মোঃ সুরুজ আলী মোল্লা (আনারস)।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হচ্ছেন, আ স ম আফজল আলী রুস্তম (টিয়া পাখি), মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন রুমি (তালা), খন্দকার শফিক মিয়া সরদার (চশমা), মোঃ আব্দুল কাদির আসাদ (টিউবওয়েল) ও মনোয়ার হোসেন জাকারিয়া (মাইক)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হচ্ছেন, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মুক্তা আক্তার (পদ্মফুল), মমতাজ বেগম ডলি (প্রজাপতি) ও মোছাঃ রুবিনা আক্তার (ফুটবল)।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা শেষ প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠছে তিন উপজেলার মাঠ-ঘাট। প্রার্থীরা ছুটে চলেন উপজেলা গুলোর বিভিন্ন হাট বাজার, পাড়া মহল্লা ও গ্রাম গঞ্জে। সভা সমাবেশ, মিছিল ও প্রতীকি ¯েøাগানে সর্বত্র এখন বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনে চেয়ে গেছে শহরসহ উপজেলার হাট বাজার গুলো।
তবে গতকাল সোমবার দিনগত রাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগেই সবধরণের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকে। আগামীকাল (২৯ মে) নির্বাচনে জেলার হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে সোমবার রাত ১২টার পর অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার থেকে প্রার্থীরা কোন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচনকে অবাধ সুষ্টু ও শান্তিপুর্ণ করতে মাঠ থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই তিন উপজেলায় ১ হাজারের অধিক পুলিশ, ৭/৮ প্লাটুন বিজিবি, দেড় হাজারের অধিক আনসার সদস্য ছাড়াও র‌্যাবের কয়েকটি টিম কাজ করবে। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে কাজ করবেন জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.