সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

হাঁড় কাঁপানো কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে কেটে খাওয়া মানুষ

ইশতিয়াক শোভনঃ জেলায় গত দু-তিন দিন ধরেই দেখা দিয়েছে বাড়তি তীব্র শীত। হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জন-জীবন। এতে সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও অন্যান্য শ্রমজীবি লোকজন। এছাড়াও ঠান্ডার কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত
রোগ। ফলে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এদিকে, মাঘের মাঝা-মাঝিতে এসে হঠাৎ শীত বাড়ায় বেড়ে গেছে গরম কাপড়ের দাম। কাপড়ের দোকানে দোকানে দেখা গেছে শীতার্থ মানুষের ভীড়।
জেলা শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক কারনেই শীতের কাপুনী বেশি। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষদের জন্য শীত বয়ে এনেছে বাড়তি কষ্ট ও দূর্ভোগ। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ঘরমুখি হয়ে পড়েছেন গ্রামের অনেক সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষ জন। ঠিকমত কাজ-কাম করতে না পারায় তাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে। সংসার চালাতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই।
গতকাল শনিবার বিকেলে শহরের শায়েস্তানগরের হকার্স মাকের্টে দেখা যায়, জেলার শহরসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক ক্রেতা শীতের কাপড় ক্রয় করছেন। জ্যাকেট, চাঁদর, মাফলার, কম্বল ও শীতের টুপি কিনতে ভীড় করছেন অনেকেই। আবার অনেক মহিলা ক্রেতাদেরকে জাম্পাটসহ শীতের গরম কাপড় ক্রয় করতে দেখা যায়। তবে দু-তিন ধরে কাপড়ের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে বলে জানান তারা।
বিক্রেতারা বলেন, ‘শীত আসলেও তেমন একটা বেচা-কেনা হয়নি। গত ৩-৪ দিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ায় বেচা-কেনা বাড়ছে। মার্কেটে পুরুষের চেয়ে মহিলা ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। শিশুদের পোষাক, জ্যাকেট, কম্বল, জাম্পাট ও টুপির চাহিদা বেশি’।
কাঁচামাল ফেরিওয়ালা আলফু মিয়া বলেন,‘তীব্র শীতের কারণে দুই দিন ধরে কাজে বের হতে পারিনি। বিকালের দিকে বের হলেও তখন তেমন ক্রেতা মিলে না। তীব্র শীতের কারণে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কোনও মানুষ বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। এতে করে বেচা-কেনা একদম কমে গেছে’।
ইটভাটার শ্রমিক ছালেক মিয়া জানান, প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশা থাকার কারণে সকালে কাজে যোগ দিতে পারেন না তিনি। রৌদ্র দেখার সাথে সাথে সকাল শেষের দিকে কাজ শুরু করতে হয় তাকে। এতে সারাদিন শেষে ৩ থেকে ৪শ টাকার কাজ করতে পারেন। এর আগে তিনি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ টাকার কাজ করতেন। শীতের কারনে তার আয় কমে গেছে। ফলে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাকে।
হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ দাস জানান, শীতে বেশিরভাগ শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাদের নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ দেখা দেয়। যে কারণে অনেক ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। শীতের তীব্রতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে সাধারণ রোগির চেয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা তিন গুন হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© shaistaganjerbani.com | All rights reserved.