ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ Logo বিদায় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতন্ত্রের নেত্রী “খালেদা জিয়া” Logo তারেক রহমানের অপেক্ষায় দেশবাসী Logo হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন বিএনপির অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী Logo শায়েস্তাগঞ্জে কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির হিড়িক, জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র Logo হবিগঞ্জ বালিভর্তি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দ Logo হাদিকে গুলি: হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সতর্কতা জারি Logo শায়েস্তাগঞ্জ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপজেলা যুবদলের দোয়া মাহফিল Logo চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জের বাহুবলে ট্রাক-চাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত

নবীগঞ্জে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব বাড়ছে ঝুঁকি

নবীগঞ্জ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

পাহাড়ি অঞ্চল খ্যাত নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগণায় চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। দেশের অস্থিরতার সুযোগে পাহাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে একদল অসাধু চক্র। অন্যদিকে ঝুঁকি বাড়ছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে দেয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। অন্যদিকে পাহাড় কাটায় জড়িতদের দ্রæত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া, গজনাইপুর, পানিউমদা ইউনিয়ন নিয়ে পাহাড় অঞ্চল দিনারপুর পরগণা। ২০১৭ সালে গণমাধ্যমে দিনারপুরে পাহাড় কাটা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে হবিগঞ্জ জেলার সকল পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে দিনারপুর এলাকার বিভিন্নস্থানে পাহাড় কেটে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে উচ্চ দামে এসব পাহাড়ি লাল মাটি বিক্রি করা হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না থাকায় ও দেশের চলমান অস্থিরতার সুযোগে গত (১১ আগস্ট) রবিবার থেকে গজনাইপুর ইউনিয়নের জনতার বাজার-শতক-মৌলভীবাজার সড়কের পাশে একটি পাহাড় কাটা শুরু হয়। স্থানীয় একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এই পাহাড় থেকে এক্সভেটর (ভেকু) মেশিন সাহায্যে মাটি কাটছে। পরে ট্রাকভর্তি করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আথানগীরি এলাকায়। পাহাড় কাটার ফলে আশপাশের বাড়ি-ঘর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়তে পাড়ে বাড়িঘর। পাহাড় কাটা বন্ধে প্রতিকার চেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শতক গ্রামের অলি মিয়া, মুবেদ মিয়া, আমিনুর রহমান, পাবেল আহমেদ যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল সোহেল বলেন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুরে পাহাড় টিলা কেটে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চলছে বহু বছর ধরে। এতে করে সার্বিক পরিবেশ প্রতিবেশ ও প্রকৃতির উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে সেটা অপ‚রণীয় ক্ষতির কারণ হচ্ছে। দেশের পরিবেশ আইন, প্রচলিত আইনসহ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কিছু লোক এই অঞ্চলের পাহাড় টিলা কেটে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে চলেছে। উচ্চ আদালত কর্তৃক পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এগুলো রক্ষায় কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করার জন্য যে কার্যকর ভ‚মিকা থাকা দরকার, আইন প্রয়োগ করা দরকার সেটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ভাবে পালন করছেননা। ফলে পাহাড় ও টিলা কাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর ধ্বংস হচ্ছে আমাদের প্রাণ- প্রকৃতি। দায়ীদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কটোর শাস্তির ব্যবস্থাসহ পাহাড় টিলাকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। দেশের সম্পদ, প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের যে সকল কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা কিংবা উদাসীনতার জন্য পাহাড় টিলা কেটে পরিবেশ বিধ্বংস করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিম‚লক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) শাহীন দেলোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা তিনি বলেন- এখন তো দেশে অস্থিরতা চলছে, এই সুযোগে একদল মানুষ পরিবেশ ধ্বংসে লিপ্ত হয়েছে, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর নবীগঞ্জ ক্যাম্পের মেজর তানভীর বলেন- পাহাড় কাটার বিষয়টি আমরা জেনেছি, ইতিমধ্যে আমাদের একটি টহল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৪
১৫১ বার পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব বাড়ছে ঝুঁকি

আপডেট সময় ১১:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৪

পাহাড়ি অঞ্চল খ্যাত নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগণায় চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। দেশের অস্থিরতার সুযোগে পাহাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে একদল অসাধু চক্র। অন্যদিকে ঝুঁকি বাড়ছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে দেয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। অন্যদিকে পাহাড় কাটায় জড়িতদের দ্রæত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া, গজনাইপুর, পানিউমদা ইউনিয়ন নিয়ে পাহাড় অঞ্চল দিনারপুর পরগণা। ২০১৭ সালে গণমাধ্যমে দিনারপুরে পাহাড় কাটা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে হবিগঞ্জ জেলার সকল পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে দিনারপুর এলাকার বিভিন্নস্থানে পাহাড় কেটে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে উচ্চ দামে এসব পাহাড়ি লাল মাটি বিক্রি করা হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না থাকায় ও দেশের চলমান অস্থিরতার সুযোগে গত (১১ আগস্ট) রবিবার থেকে গজনাইপুর ইউনিয়নের জনতার বাজার-শতক-মৌলভীবাজার সড়কের পাশে একটি পাহাড় কাটা শুরু হয়। স্থানীয় একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এই পাহাড় থেকে এক্সভেটর (ভেকু) মেশিন সাহায্যে মাটি কাটছে। পরে ট্রাকভর্তি করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আথানগীরি এলাকায়। পাহাড় কাটার ফলে আশপাশের বাড়ি-ঘর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়তে পাড়ে বাড়িঘর। পাহাড় কাটা বন্ধে প্রতিকার চেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শতক গ্রামের অলি মিয়া, মুবেদ মিয়া, আমিনুর রহমান, পাবেল আহমেদ যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল সোহেল বলেন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুরে পাহাড় টিলা কেটে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চলছে বহু বছর ধরে। এতে করে সার্বিক পরিবেশ প্রতিবেশ ও প্রকৃতির উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে সেটা অপ‚রণীয় ক্ষতির কারণ হচ্ছে। দেশের পরিবেশ আইন, প্রচলিত আইনসহ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কিছু লোক এই অঞ্চলের পাহাড় টিলা কেটে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে চলেছে। উচ্চ আদালত কর্তৃক পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এগুলো রক্ষায় কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করার জন্য যে কার্যকর ভ‚মিকা থাকা দরকার, আইন প্রয়োগ করা দরকার সেটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ভাবে পালন করছেননা। ফলে পাহাড় ও টিলা কাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর ধ্বংস হচ্ছে আমাদের প্রাণ- প্রকৃতি। দায়ীদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কটোর শাস্তির ব্যবস্থাসহ পাহাড় টিলাকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। দেশের সম্পদ, প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের যে সকল কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা কিংবা উদাসীনতার জন্য পাহাড় টিলা কেটে পরিবেশ বিধ্বংস করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিম‚লক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) শাহীন দেলোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা তিনি বলেন- এখন তো দেশে অস্থিরতা চলছে, এই সুযোগে একদল মানুষ পরিবেশ ধ্বংসে লিপ্ত হয়েছে, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর নবীগঞ্জ ক্যাম্পের মেজর তানভীর বলেন- পাহাড় কাটার বিষয়টি আমরা জেনেছি, ইতিমধ্যে আমাদের একটি টহল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে