ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একজন এন্ড্রু কিশোর… ভুলে যাও গানের পাখি

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

‘প্লেব্যাক সম্রাট’খ্যাত দেশের বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। গত শনিবার ছিল তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।

এদিন দেশের সংগীতাঙ্গনে তাকে স্মরণ করে তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে জন্মস্থান রাজশাহীতে একটি স্মরণসভা হয়েছে রাজশাহী প্রেস ক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে। শারীরিক অসুস্থতার জন্য ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এন্ড্রু কিশোরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ধরা পড়ে ক্যানসার। সেখানে তিনি কয়েক মাস চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিলে ২০২০ সালের ২০ জুন রাজশাহীতে ফিরে আসেন তিনি। ৬ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। বাংলা চলচ্চিত্রে ১৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ প্রভৃতি।
সাফল্যের আশায় আবারও জুটি বাঁধছেন নিশো-তমা

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সহকর্মীরা স্মরণ করছেন। তার সঙ্গে অসংখ্য গানে প্লেব্যাক করেছেন কনকচাঁপা। নন্দিত এই শিল্পীকে স্মরণ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। প্লেব্যাক সম্রাটের মৃত্যুদিনে ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করে এই গায়িকা জানালেন মন পোড়ানো প্রতিক্রিয়া।

বললেন, ‘ভাবতেই অবাক লাগে কি নির্ভার, কি প্রশ্রয়ে এমন চুলার পাড়ের বিলাইয়ের মতো করে বড় ভাইয়ের সোফার হাতলে বসে ছিলাম আনন্দে। এমনই বড় ভাই ছোট বোন সম্পর্ক ছিল আমাদের! তার গানের সৌকর্য নিয়ে কথা না বললেও চলে। কিন্তু তিনি মানুষ হিসেবে কতটা আন্তরিক ছিলেন তা এই ছবিই বলে দেয়! চার বছর হয়ে গেল! আশ্চর্য! অথচ তাকে ছাড়া বাংলাদেশ গানপ্রেমী মানুষের একদিনও কি চলে! স্রষ্টা আপনাকে ভালো রাখুন কিশোরদা।’

উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার পুরো নাম এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। মা ছিলেন সংগীতানুরাগী, কিশোর কুমারের ভক্ত। সেই সূত্রেই ছেলের নাম রাখেন কিশোর। বড় হয়ে ছেলে তাই মায়ের স্বপ্ন পূরণে গানের ভুবনে পা রাখেন আর রচনা করেন ইতিহাস।

মূলত সিনেমার গানের শিল্পী (প্লেব্যাক গায়ক) হিসেবে কালজয়ী এন্ড্রু কিশোর। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমায় আলম খানের সুরে প্রথম গান করেন তিনি। তবে শ্রোতামহলে তার কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে ১৯৭৯ সালের ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমার ‘এক চোর যায় চলে’ গানের মাধ্যমে।

তার গাওয়া কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘তুমি আমার কত চেনা’, ‘সব সখিরে পার করিতে’, ‘ও সাথিরে’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি চাঁদের জোছনা নও’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’, ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে’, ‘এক বিন্দু ভালোবাসা দাও’ ইত্যাদি।

শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে এন্ড্রু কিশোর ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়া বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও রয়েছে তার অর্জনের খাতায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
১১ বার পড়া হয়েছে

একজন এন্ড্রু কিশোর… ভুলে যাও গানের পাখি

আপডেট সময় ০১:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

‘প্লেব্যাক সম্রাট’খ্যাত দেশের বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। গত শনিবার ছিল তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।

এদিন দেশের সংগীতাঙ্গনে তাকে স্মরণ করে তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে জন্মস্থান রাজশাহীতে একটি স্মরণসভা হয়েছে রাজশাহী প্রেস ক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে। শারীরিক অসুস্থতার জন্য ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এন্ড্রু কিশোরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ধরা পড়ে ক্যানসার। সেখানে তিনি কয়েক মাস চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিলে ২০২০ সালের ২০ জুন রাজশাহীতে ফিরে আসেন তিনি। ৬ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। বাংলা চলচ্চিত্রে ১৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ প্রভৃতি।
সাফল্যের আশায় আবারও জুটি বাঁধছেন নিশো-তমা

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সহকর্মীরা স্মরণ করছেন। তার সঙ্গে অসংখ্য গানে প্লেব্যাক করেছেন কনকচাঁপা। নন্দিত এই শিল্পীকে স্মরণ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। প্লেব্যাক সম্রাটের মৃত্যুদিনে ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করে এই গায়িকা জানালেন মন পোড়ানো প্রতিক্রিয়া।

বললেন, ‘ভাবতেই অবাক লাগে কি নির্ভার, কি প্রশ্রয়ে এমন চুলার পাড়ের বিলাইয়ের মতো করে বড় ভাইয়ের সোফার হাতলে বসে ছিলাম আনন্দে। এমনই বড় ভাই ছোট বোন সম্পর্ক ছিল আমাদের! তার গানের সৌকর্য নিয়ে কথা না বললেও চলে। কিন্তু তিনি মানুষ হিসেবে কতটা আন্তরিক ছিলেন তা এই ছবিই বলে দেয়! চার বছর হয়ে গেল! আশ্চর্য! অথচ তাকে ছাড়া বাংলাদেশ গানপ্রেমী মানুষের একদিনও কি চলে! স্রষ্টা আপনাকে ভালো রাখুন কিশোরদা।’

উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার পুরো নাম এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। মা ছিলেন সংগীতানুরাগী, কিশোর কুমারের ভক্ত। সেই সূত্রেই ছেলের নাম রাখেন কিশোর। বড় হয়ে ছেলে তাই মায়ের স্বপ্ন পূরণে গানের ভুবনে পা রাখেন আর রচনা করেন ইতিহাস।

মূলত সিনেমার গানের শিল্পী (প্লেব্যাক গায়ক) হিসেবে কালজয়ী এন্ড্রু কিশোর। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমায় আলম খানের সুরে প্রথম গান করেন তিনি। তবে শ্রোতামহলে তার কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে ১৯৭৯ সালের ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমার ‘এক চোর যায় চলে’ গানের মাধ্যমে।

তার গাওয়া কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘তুমি আমার কত চেনা’, ‘সব সখিরে পার করিতে’, ‘ও সাথিরে’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি চাঁদের জোছনা নও’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’, ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে’, ‘এক বিন্দু ভালোবাসা দাও’ ইত্যাদি।

শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে এন্ড্রু কিশোর ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়া বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও রয়েছে তার অর্জনের খাতায়।