ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বন্যায় দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সিলেট প্রতিনিধি

এক মাসের ব্যবধানে পরপর তিন দফা বন্যায় সিলেট বিভাগে অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এমন মন্তব্য করেছেন। তবে পুরোপুরি পানি না কমলে সঠিক নির্ণয় করা যাবে না বলেও জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চাওয়া হয়েছে। তবে এবার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি, মৎস্য, বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর।

সিলেট বিভাগীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চাষাবাদযোগ্য জমি পানির নিচে থাকায় অনেকেই আমনের বীজতলা করতে পারছেন না। এবার বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ফসলের। প্রাথমিকভাবে কৃষির ক্ষতি হয়েছে ৪১৮ কোটি টাকার। বিভাগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৎস্যের ক্ষতি ১০ কোটি ৬৬৭ কোটি টাকা। ২৩ হাজার ৮১৩টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিলেট সড়ক জোন-এর সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানান, সিলেট বিভাগে মোট ১৬৩ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান ৬৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবির জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় সিলেট জেলায় ১৬০ কিলোমিটার রাস্তা ডুবে ক্ষতি হয় ১২০ কোটি টাকার। কিন্তু তৃতীয় দফা বন্যার পানিতে আরো সড়ক ডুবেছে। তাতে মনে হয় ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২০০ কোটি টাকা হবে। পানি কমলে এই হিসাব আরো বাড়তে পারে।

সুনামগঞ্জে এলজিডির আওতাধীন ১৪০ কিলোমিটার সড়কের ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোর ক্ষতির হিসাব নিরূপণ হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে বন্যায় মৎস্য ও কৃষিখাতে ১শ’ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে। শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে জেলার কিছু জায়গার বন্যার পানি কমলে সামনে আসে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ। তবে এখনো হাওর ও জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কমলগঞ্জেরে ফেইথ এগ্রোর ম্যানেজার ইকরামুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকবারের বন্যায় আমাদের ৪৫ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মাছচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় আমার পুকুরের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মাছ ও পোনা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার অনেক মৎস্যজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েকবারে বন্যায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের ৫১৬২ হেক্টর জমির আউশ ধান ও ১০৫৪ হেক্টর জমির শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ সিরাজি বলেন, বন্যায় ৭১৮টি পুকুর ও দিঘীর প্রায় ২২২ টন মাছ ও ৭১ লাখ পোনা নষ্ট হয়ে প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:১৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪
৯২ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে বন্যায় দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় ০৩:১৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

এক মাসের ব্যবধানে পরপর তিন দফা বন্যায় সিলেট বিভাগে অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এমন মন্তব্য করেছেন। তবে পুরোপুরি পানি না কমলে সঠিক নির্ণয় করা যাবে না বলেও জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চাওয়া হয়েছে। তবে এবার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি, মৎস্য, বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর।

সিলেট বিভাগীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চাষাবাদযোগ্য জমি পানির নিচে থাকায় অনেকেই আমনের বীজতলা করতে পারছেন না। এবার বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ফসলের। প্রাথমিকভাবে কৃষির ক্ষতি হয়েছে ৪১৮ কোটি টাকার। বিভাগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৎস্যের ক্ষতি ১০ কোটি ৬৬৭ কোটি টাকা। ২৩ হাজার ৮১৩টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিলেট সড়ক জোন-এর সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানান, সিলেট বিভাগে মোট ১৬৩ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান ৬৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবির জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় সিলেট জেলায় ১৬০ কিলোমিটার রাস্তা ডুবে ক্ষতি হয় ১২০ কোটি টাকার। কিন্তু তৃতীয় দফা বন্যার পানিতে আরো সড়ক ডুবেছে। তাতে মনে হয় ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২০০ কোটি টাকা হবে। পানি কমলে এই হিসাব আরো বাড়তে পারে।

সুনামগঞ্জে এলজিডির আওতাধীন ১৪০ কিলোমিটার সড়কের ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোর ক্ষতির হিসাব নিরূপণ হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে বন্যায় মৎস্য ও কৃষিখাতে ১শ’ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে। শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে জেলার কিছু জায়গার বন্যার পানি কমলে সামনে আসে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ। তবে এখনো হাওর ও জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কমলগঞ্জেরে ফেইথ এগ্রোর ম্যানেজার ইকরামুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকবারের বন্যায় আমাদের ৪৫ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মাছচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় আমার পুকুরের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মাছ ও পোনা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার অনেক মৎস্যজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েকবারে বন্যায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের ৫১৬২ হেক্টর জমির আউশ ধান ও ১০৫৪ হেক্টর জমির শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ সিরাজি বলেন, বন্যায় ৭১৮টি পুকুর ও দিঘীর প্রায় ২২২ টন মাছ ও ৭১ লাখ পোনা নষ্ট হয়ে প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।