ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জুলাই যোদ্ধাদের চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী Logo একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ‍প্রধানমন্ত্রী Logo জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী Logo শায়েস্তাগঞ্জে আগস্টের বিজয় Logo হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা: ছাত্রদল নেতা রিংগনসহ ১১ জনের জামিন Logo হবিগঞ্জে এক বছরে পানিতে ডুবে ২৭ শিশুর মৃত্যু Logo লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু Logo হবিগঞ্জে পাটোয়ারী-সারজিসসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা Logo শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকের ছায়া গ্রামজুড়ে Logo হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা

শায়েস্তাগঞ্জে কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির হিড়িক, জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

শায়েস্তাগঞ্জে প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ মাটিখেকো চক্র। গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে অবাধে বিক্রি করে আসছে এ চক্রটি। বিশেষ করে শীত শুরু হলেই ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নে তাদের তৎপরতা বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে এবার মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য কয়েক গুণ বেড়েছে। দিন-রাত শ্রমিক ও এক্সকেভেটর ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের ফলে এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাটও ভেঙে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, টপসয়েল বিক্রি ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি মধ্যসত্ত্বভোগী চক্র। এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রাহ্মণডোরা এলাকার একদল প্রভাবশালী। প্রভাবশালী এই ব্যক্তিরা কৃষিজমি থেকে টপসয়েল কেটে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে আসছেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের শেরপুর, কেশবপুর ও ঋষিপাড়া এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরানো হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি ট্রাক্টর টপসয়েল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনে তা বিক্রি করছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “এই মাটিখেকো চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় আমরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছি না। প্রভাবশালীরা সব সময়ই থাকে সরকার পরিবর্তন হলে শুধু কয়েকজন বদলায়, বাকিরা থেকেই যায়।” এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
১৪৫ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জে কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির হিড়িক, জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র

আপডেট সময় ১১:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

শায়েস্তাগঞ্জে প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ মাটিখেকো চক্র। গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে অবাধে বিক্রি করে আসছে এ চক্রটি। বিশেষ করে শীত শুরু হলেই ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নে তাদের তৎপরতা বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে এবার মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য কয়েক গুণ বেড়েছে। দিন-রাত শ্রমিক ও এক্সকেভেটর ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের ফলে এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাটও ভেঙে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, টপসয়েল বিক্রি ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি মধ্যসত্ত্বভোগী চক্র। এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রাহ্মণডোরা এলাকার একদল প্রভাবশালী। প্রভাবশালী এই ব্যক্তিরা কৃষিজমি থেকে টপসয়েল কেটে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে আসছেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের শেরপুর, কেশবপুর ও ঋষিপাড়া এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরানো হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি ট্রাক্টর টপসয়েল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনে তা বিক্রি করছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “এই মাটিখেকো চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় আমরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছি না। প্রভাবশালীরা সব সময়ই থাকে সরকার পরিবর্তন হলে শুধু কয়েকজন বদলায়, বাকিরা থেকেই যায়।” এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।